তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত মেহেরপুরের জনজীবন। শহরাঞ্চলে কিছুটা বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও গ্রামাঞ্চলে দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা লোডশেডিং অব্যাহত। এতে বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন মেশিন মিলের কাজ। ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় কৃষিজমিতে সেচ দিতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের।
মেহেরপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কার্যালয়ের তথ্য মতে, মেহেরপুরের তিনটি উপজেলায় মোট গ্রাহক ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৫৯। এদের মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৮৮ জন, বাণিজ্যিক গ্রাহক ৯ হাজার ৭০২, শিল্প সংযোগ ২ হাজার ১৭৫, বিভিন্ন সেচ পাম্প রয়েছে ৩ হাজার ৪২৩ জন। অন্যান্য গ্রাহক রয়েছে ২ হাজার ৮৭১ টি।
জেলায় লোডশেডিংমুক্ত নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৭২ মেগাওয়াট। অফ পিক আওয়ার রাত ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৫৫ মেগাওয়াট চাহিদা থাকলেও প্রাপ্ত বিদ্যুৎ ৪০ মেগাওয়াট। এখানে ঘাটতি দেখানো হয়েছে ১৫ মেগাওয়াট। পিক আওয়ার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা ৬২ মেগাওয়াট, প্রাপ্তি ৪১ মেগাওয়াট। ঘাটতি দেখানো হয়েছে ২১ মেগাওয়াট। অফ পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২৭% এবং পিক আওয়ারে ঘাটতি ৩০ থেকে ৩৪%।
গ্রাহকদের অভিযোগ, দাফতরিকভাবে বিদ্যুতের যে ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে বাস্তবে তার চিত্র অনেকটা ভিন্ন। সারাদিনে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। গ্রাম ও শহরের মধ্যেও বিদ্যুৎ সরবরাহে রয়েছে বিস্তর বৈষম্য। শহরের তুলনায় গ্রামে ৪ ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
গাংনী উপজেলার সহড়াবাড়িয়া গ্রামের মিয়া খামারের মালিক শরিফুল ইসলাম জানান, তার এখানে ২৫০ বিঘা বিভিন্ন ফসলের আবাদ রয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিদিনই জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৩/৪ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে। তা ছাড়া ফসলের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
জুগিরগোফার গ্রামের মৎস্য চাষি বক্কর ডাক্তার জানান, এলাকায় অন্তত ১৫০টি পুকুরে মাছ চাষ হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় সেচ দিতে পারছেন না। ফলে, মাছ চাষে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। সন্ধ্যায় বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন কুঞ্জনগরের পরীক্ষার্থী মিলা আক্তার।
রায়পুরের কলেজশিক্ষার্থী নুসরাত ও হেমায়েতপুরের রেশমা জানান, দিনে সমস্যা না হলেও সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জারের আলোতে ও গরমে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক না হলে ফলাফল ভালো করা কঠিন হবে।
মেহেরপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমার ঘোষ জানান, জেলায় চাহিদা মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৪% লোডশেডিং হচ্ছে। কবে এই সমস্যার সমাধান হবে তা তিনিও জানেন না।
সময়ের আলো/মহু