পাহাড় ধসের শঙ্কায় দিনভর মাইকিং করা হয়েছে। ছবি : সময়ের আলো
চট্টগ্রামে ২ দিন ধরে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পর সোমবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। ভারী বর্ষণে নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জনজীবন থমকে গেছে। পাহাড় ধসের শঙ্কায় করা হয়েছে দিনভর মাইকিং।
সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন। এসময় তিনি খাল নর্দমার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। টানা বৃষ্টিতে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা না যাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন।
এদিকে, পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদফতর সোমবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। চার সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে পাহাড় ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। রোববার রাতেও নগরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়। পাহাড়ের আশপাশের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসাগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করায় যেকোনও ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। ৬ জন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম কাজ করছে। মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। নগরীর নিচু এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলেছে। বিশেষ করে আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড় থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করা হয়েছে।
জানা গেছে, নগরের টাংকির পাহাড় এবং আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড় ও আশেপাশে ভারি বর্ষণের সময় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। তাই এসব এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাইকিং করার পর খুপরি ঘরের কিছু বাসিন্দা সরে গেছে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে। আবার ঝুঁকি জেনেও অনেক বাসিন্দা সরে যায়নি।
এদিকে, আবহাওয়ার ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙরে সব ধরনের পণ্য লাইটারেজ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে, বন্দর জেটিতে পণ্য ওঠানামা অব্যাহত আছে। বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারিও স্বাভাবিক আছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বশির আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই অবস্থা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। দেশের চার সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে হবে। পাহাড় ধসের সতর্ক সঙ্কেতও জারি করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রা কমে গেছে ।’