নওগাঁয় ছোট যমুনা নদী সাঁতরে পার হতে গিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সাহিদা (২৫) নামে গৃহবধূ। নিখোঁজের ৪ ঘণ্টা পর মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল।
এর আগে, সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১টায় শহরের ছোট যমুনা নদীর ডিগ্রীর মোড় পারঘাট থেকে নিখোঁজ হন তিনি।
নিহত গৃহবধূ সাহিদা শহরের সুলতানপুর মহল্লার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- সাহিদার ছেলে মাদরাসায় পড়াশুনা করে। ছেলেটি বেশ কিছুদিন থেকে অসুস্থ। তিনি হঠাৎ স্বপ্নে দেখেন, ছোট যমুনার নদীর তীরে লখাইজানি এলাকায় অবস্থিত মাজারে মানত করলে সে সুস্থ হয়ে যাবে। এজন্য গত শনিবার বাবার বাড়ি যান। সেখান থেকে একটি মাটির ঘটিসহ ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে নদীর তীরে মাজারে আসেন। মানত শেষে ঘটি নদীতে ডুবিয়ে দেন। এরপর স্বপ্নে দেখা নির্দেশনা অনুযায়ী, ছোট যমুনা নদীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পাড়ে সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এসময় পারঘাটের মাঝি শুকুর আলি তাকে নৌকায় পার হতে অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি রাজি হননি। একসময় ক্লান্ত হয়ে নদীর মাঝে ডুবে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে তার হাতটি পানির ওপরে উঠে আসে। এসময় মাঝি তার হাতটি ধরার চেষ্টা করলে পানিতে ডুবে যান সাহিদা। পরে নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেওয়া হলে, তারা উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল এসে আধা ঘণ্টার মধ্যে ডুবে যাওয়া স্থান থেকে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
নিহতের চাচা আব্দুস সালাম বলেন, ‘সাহিদার মাজারে আসার ব্যপারটা আমরা জানতাম না। ডুবে যাওয়ার পর বাড়িতে খবর দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এখন মৃত অবস্থায় ভাতিজির মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’
নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আমির বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সময়ের আলো/মহু