বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতির বিরুদ্ধে হাসপাতাল চত্বরে ক্লিনিক স্থাপন, ৪৩ লাখের বেশি টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিকার ও তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ‘দুর্নীতি বিরোধী জোট, মোরেলগঞ্জ’ নামের একটি সংগঠন।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এবং ওই কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ দাবি করেন।
মানববন্ধন চলাকালীন সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগপত্র বিতরণ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রোগীদের ওষুধপত্র (এমএসআর) ক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৩ লাখের বেশি টাকা যথাযথভাবে ব্যয় না করে সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে রোগীদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়, হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে স্থানান্তর এবং ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট বা সনদ দিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই কর্মকর্তা বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জোরপূর্বক ভুয়া বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। এমনকি স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম, ঘন ঘন স্টোরকিপার ও হেড ক্লার্ক পরিবর্তন করে প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি এবং হাসপাতালে কৃত্রিম চিকিৎসক ও জনবল সংকট সৃষ্টির মতো গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
পাশাপাশি, চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানাবিধ অনিয়মের কথা উল্লেখ করে আন্দোলনকারীরা জানান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অনেক রোগীর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, যার ফলে রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. রেজাউল করিম, মাহমুদা খানম, সাবিনা ইয়াসমিন টুলু, মো. বশির উদ্দিন, আবদুল্লাহ আল মামুন এবং মো. শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয়রা।
সময়ের আলো/জোই