বরগুনার আমতলীতে আদালতের নির্দেশে রোপণ করা ধানের চারা রাতের আঁধারে উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় জমির মালিক ও তার পরিবারকে টানা দুই দিন বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আমতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামের অহেদ মুসুল্লী ও তার চার ভাই পৈতৃক সূত্রে ৪.১৫ একর (বা শতাংশ, মূল তথ্যানুযায়ী) জমির মালিক। প্রায় এক শতাব্দী ধরে জমিটি তাদের ভোগদখলে ছিল। তবে ২০২১ সালে গুলিশাখালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলতাফ আঁকন, সেলিম আঁকন, খবির আঁকন ও দেলোয়ার আঁকন জোরপূর্বক জমিটি দখল করে নেন।
পরবর্তীতে জমির প্রকৃত মালিক অহেদ মুসুল্লী বরগুনা জজ আদালতে একটি মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত অহেদ মুসল্লির পক্ষে রায় দেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আদালত ওই জমিতে অহেদ মুসল্লি ও তার ভাইদের চাষাবাদের নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশনা মোতাবেক শুক্রবার তারা জমিতে ধানের চারা রোপণ করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চারা রোপণের ওই রাতেই আলতাফ আঁকন, সেলিম আঁকন ও তাদের সহযোগীরা জমিতে প্রবেশ করে রোপণ করা সমস্ত ধানের চারা উপড়ে ফেলে এবং তা মাটিচাপা দিয়ে দেয়। শনিবার সকালে বিষয়টি দেখে অহেদ মুসল্লি ও তার পরিবার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অহেদ মুসল্লি জানান, প্রতিবাদের জেরে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের টানা দুই দিন ধরে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং ঘরের বাইরে বের হলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে রোববার রাতে তার ভাই ছালাম মুসল্লি কৌশলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আমতলী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
সোমবার সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠের রোপণ করা ধানের চারাগুলো উপড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বিগত পাঁচ বছর ধরে জমিটি জোরপূর্বক দখলে রেখেছিল আলতাফ আঁকন ও তার লোকজন। আদালতের নির্দেশে এবার চাষাবাদ করা হলেও রাতের আঁধারে তারা চারাগুলো নষ্ট করে ফেলেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলতাফ আঁকন জমিটি তাদের দাবি করে বলেন, জমিটি আমাদের, তাই আমরাই সেখানে চাষাবাদ করেছি। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও আদেশের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই