বাবার একাধিক বিয়ের বিরোধে রক্তাক্ত পরিণতি, শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বরগুনার আমতলীর গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি রিপন কাজী (৩৫) হত্যাকাণ্ডে তার বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে।নিহতের

2026-07-01T15:07:34+00:00
2026-07-01T15:17:45+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বাবার একাধিক বিয়ের বিরোধে রক্তাক্ত পরিণতি, শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৭ পিএম  আপডেট: ০১.০৭.২০২৬ ৩:১৭ পিএম
মো. রিপন কাজী। ছবি : সংগৃহীত
বরগুনার আমতলীর গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি রিপন কাজী (৩৫) হত্যাকাণ্ডে তার বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে। 

নিহতের পরিবারের দাবি, বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ এবং পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে রিপন কাজীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দুজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে তারা পটুয়াখালী সদর থানার হেফাজতে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা রিপন কাজী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন। তার বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর একাধিক বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে এ বিরোধের জেরে রিপন কাজী তার বাবাকে মারধর করলে তিনি আহত হন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে রিপন কাজীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই, গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিফাত কাজীর বিরোধ শুরু হয়। 

নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক ও রাজনৈতিক এই বিরোধকে কেন্দ্র করেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিপন কাজী ও তার চাচাতো ভাই রাজিব কাজী মোটরসাইকেলে বাজারঘোনা এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গগণখা এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১৫ থেকে ২০ জন তাদের পথরোধ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে রাসেল কাজী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিপন কাজীর ওপর আঘাত করেন। এতে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান রিপন ও রাজিব। 


পরে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী, মনির কাজীসহ অন্যরা রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব কাজী বলেন, হঠাৎ করেই আমাদের ওপর হামলা হয়। আমি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের খালে পড়ে যাই। রিপনকে ১৫-২০ জন মিলে কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর আহত করে।

নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী বলেন, বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় আমার ভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের মা আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের কঠোর বিচার চাই।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে দিয়েছে। পরে তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিহতের বাবা মিজানুর কাজীর বলে জানা গেছে। 

যেহেতু ঘটনাস্থল পটুয়াখালী সদর উপজেলার মধ্যে, তাই আইনগত ব্যবস্থা সেখান থেকেই নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   পটুয়াখালী  বাবা  চাচাতো ভাই  যুবক  হত্যা  অভিযোগ  বরগুনা  আমতলী  রিপন কাজী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: