হাইকোর্টের নির্দেশনার পর মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দায়িত্ব ফিরে পাচ্ছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহার।
তিনি জানান, চেয়ারম্যানদের দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান খানের স্বাক্ষরিত নির্দেশনা গত রোববার (৫ জুলাই) তার কাছে পৌঁছেছে। সরকারি চিঠি হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
দায়িত্ব ফিরে পাওয়া চেয়ারম্যানরা হলেন, তালেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রমজান আলী, বায়রা- দেওয়ান মো. জিন্নাহ, চারিগ্রাম- মো. রিপন হোসেন, জয়মন্টপ- ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাত হোসেন, চান্দহর- মো. শওকত হোসেন, ধল্লা- মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, শায়েস্তা- মো. আব্দুল হালিম এবং জামির্ত্তা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন।
তবে জামশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী কামরুজ্জামান হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি (সার্টিফাইড কপি) জমা না দেওয়ায় আপাতত দায়িত্ব ফিরে পাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের ৩১ জুলাই মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক আদেশে সিংগাইর উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চেয়ারম্যানরা পৃথকভাবে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
গত ৩ মার্চ শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ প্রশাসক নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। পরবর্তীতে ওই রায়ের আলোকে স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চেয়ারম্যানরা। চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত হোসেন বলেন, মহান আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া। সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবার সহযোগিতায় বাকি সময় জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।
ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনা হাতে পেলেই দায়িত্ব গ্রহণ করে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করব।
শায়েস্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হালিম বলেন, প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতা নিয়ে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
সময়ের আলো/জোই