নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় খেলাফত মজলিশ ও বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও আরও অজ্ঞাতপরিচয় ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) ফতুল্লা মডেল থানায় এ হত্যা মামলাটি রেকর্ড করা হয় বলে নিশ্চিত করেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
এ মামলায় এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন, স্থানীয় মসজিদের ইমাম, আল ফালাহ নামে স্থানীয় একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও খেলাফত মজলিশের সদর থানা শাখার সাবেক সহসভাপতি কাউছার আহাম্মেদ কাসেমী (৪০), জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি (৫০), ওলামা দলের ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক জিলানী ফকির (৫৫), একই এলাকার বাসিন্দা আজহার (৫৫), সাইদুল (৪২) ও আলম (৩৮)। এছাড়াও অজ্ঞাত আরো ১৪/১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতের পরিবার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করার পর তার মা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। তবে এ মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হননি। তবে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহারে বাদী লিখেছেন, নিহত সিজান তার ছোট ছেলে। সে অসৎ সঙ্গে বিপথে গেলেও পরিবারের লোকজন তাকে ওইসব কর্মকাণ্ড থেকে ফিরিয়ে এনেছিল। এজন্য তাকে তাবলীগেও পাঠানো হয়েছিল। ভালো দিকে ফিরে সিজান তার বড়ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসাতেও সহযোগিতা করছিল।
গত শনিবার বিকেলে অনিক (২৮) নামে এক যুবককে মোবাইল চোর সন্দেহে আটকে পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে মারধর করছিল অভিযুক্তরা। অনেকের ভাষ্যে তারা বিকেল ৪টার দিকে সিজানকে তার বাসার সামনে থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং একই জায়গায় নিয়ে মারধর করে।
তিনি বলেন, এক পর্যায়ে তারা দুʼজনকে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে স্টিলের পাইপ দিয়ে পেটাতে থাকে। ব্যথায় চিৎকার করলে অভিযুক্তরা সিজানের মুখে কালো কাপড় বেঁধে পেটায়। খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে তাদেরকে অনেক অনুনয় বিনয় করি, কিন্তু তারা আমার সামনে আমার ছেলেকে পেটাতে থাকে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে অচেতন অবস্থায় আমার ছেলেকে আমার জিম্মায় দেয়। তখন সিজানকে ওই অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করেন বাদী।
সময়ের আলো/জোই