মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ বাড়ির পাশে মাটিচাপা দিয়ে নিখোঁজের নাটক সাজানোর অভিযোগে স্বামী আলমগীরকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর সোমবার (৬ জুলাই) সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বাড়ির পাশ থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জায়েদা আক্তার (৩২) রাজনগর উপজেলার সোনাটিকি গ্রামের হান্নান মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর একই উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ২০ দিন আগে আলমগীর তার স্ত্রীকে হত্যা করে বাড়ির পাশেই মরদেহ মাটিচাপা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তিনি স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার প্রচার চালান। দীর্ঘদিন ধরে জায়েদা আক্তারের কোনো খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
একপর্যায়ে আলমগীর নিজেই রাজনগর থানায় স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান। তবে, তার বক্তব্যে অসঙ্গতি এবং আচরণে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক স্বামী আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/মহু