গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রী দুলালি বেগমকে (৫৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে স্বামী বিরাজ মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের গোশাইপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার।
নিহত দুলালি বেগম উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চক সিংহডাঙ্গা গ্রামের দুলু মিয়ার মেয়ে। বিরাজ কাটাবাড়ী ইউনিয়নের সদর কলোনি গ্রামের ফয়েজ উদ্দীনের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, এটিই বিরাজ আলীর এমন ঘটনা প্রথম নয়। প্রায় এক যুগ আগে তিনি একইভাবে তার শাশুড়ি সেলিনা বেগমকেও হত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলায় কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় স্ত্রী দুলালি বেগম জামিনে মুক্ত করে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। দীর্ঘ বছর পর সেই স্বামীর হাতেই নিজের মায়ের মতো একইভাবে প্রাণ হারাতে হলো দুলালি বেগমকে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেলের দিকে পারিবারিক কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্ত্রী দুলালির বুকে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে স্বামী বিরাজ। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুলালি। অবস্থা বেগতিক দেখে পাশের জমিতে পাটখেতে আত্মগোপন করেন বিরাজ। এ ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নেয় গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ।
দুলালি বেগম হত্যার ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার বর্মণ জানান, ২০০৭ সালে বিরাজের বিরুদ্ধে তার শাশুড়ি সেলিনা বেগমকে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা হয়। নিহত সেলিনা বেগমের ভাই মামলাটি করেছিলেন। এ মামলায় কারাগারে থাকাকালে স্ত্রী দুলালি বেগম তাকে জামিনে মুক্ত করিয়েছিলেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, স্থানীয়দের খবরে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত স্বামী বিরাজকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। দুপুরের দিকে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
সময়ের আলো/জোই