রাজধানীর মতিঝিল সরকারি কলোনির হাসপাতাল জোন (স্টোর কম্পাউন্ড)-এর পাঁচটি ২০ তলা আবাসিক ভবনে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এলপিজি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩৮০টি পরিবারের প্রায় দুই হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রি-পেইড গ্যাস কার্ডে অগ্রিম অর্থ জমা নেওয়ার পরও কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে গ্রাহকদের চার লাখ টাকারও বেশি অগ্রিম অর্থ আটকে রয়েছে।
এ ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসিক ভবন কল্যাণ সমিতি গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগে দ্রুত গ্যাস সংযোগ চালু, গ্রাহকদের অর্থ ফেরত এবং গণপূর্ত অধিদফতরের দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সমিতির অভিযোগ, মতিঝিল সরকারি কলোনির ডি-১ ও ডি-২ শ্রেণির পাঁচটি ভবনে প্রায় দুই হাজার মানুষ বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব ভবনে প্রি-পেইড ব্যবস্থায় এলপিজি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। পরে সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায় ঢাকা টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
বাসিন্দাদের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগ বাড়তে থাকে। এসব বিষয়ে একাধিকবার মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরে গ্রাহকদের বেশি পরিমাণ অর্থ রিচার্জ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অনেক পরিবার কয়েক হাজার টাকা করে অগ্রিম জমা দেয়। কিন্তু গত ৫ জুন হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে একদিকে রান্নার সংকট, অন্যদিকে অগ্রিম জমা দেওয়া অর্থ ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাসিন্দারা।
সরকারি আবাসনে বসবাসকারী পরিবারগুলোর অনেকেই গ্যাস না থাকায় বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছে। একসঙ্গে এতগুলো পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। বাসিন্দাদের ভাষ্য, সরকারি আবাসনে থেকেও একটি মৌলিক নাগরিক সেবা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকা দুঃখজনক। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা ও তদারকির অভাবেই এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়েছে।
কল্যাণ সমিতির নেতারা বলছেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ দেওয়া হলেও গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর নজরদারি বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের কারণে শত শত সরকারি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে টেলিফোন করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হবে।
সময়ের আলো/কেএইচও