ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ দেশটির রাজধানী তেহরান থেকে পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হয়েছে। সেখানে জানাজা শেষে বিশাল শোক র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
কোমের গভর্নর জেনারেল আকবর বেহনামজু জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় পবিত্র জামকারান মসজিদে খামেনির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এতে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জানাজাকে কেন্দ্র করে কোমে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নামাজ শেষে পায়াম্বার-এ আজম বুলেভার্ড থেকে শোক র্যালি শুরু হয়ে হযরত মাসুমেহ (আ.)-এর পবিত্র মাজারের দিকে অগ্রসর হবে।
এর আগে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্স থেকে শোক র্যালি বের করা হয়। এর আগে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুই দিন ওই কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল।
আয়োজকদের ভাষ্য, শোক র্যালি সম্পন্ন করতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ শোকযাত্রা দামাভান্দ স্ট্রিট, ইমাম হুসেন স্কয়ার, ইনকিলাব স্ট্রিট, আজাদি স্ট্রিট, আজাদি স্কয়ার এবং মেহরাবাদ বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত শহীদ লাশগরি হাইওয়ে অতিক্রম করবে।
রোববার আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী খামেনি, তার জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাঘেরি-কানি, মেয়ে জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী-গোলপায়েগানি এবং সাইয়েদেহ বুশরা হোসেইনির জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, তাজিকিস্তান ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলও শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার কোমে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বুধবার মরদেহ ইরাকের নজফে ইমাম আলী (আ.)-এর মাজার এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন (রা.) ও হযরত আব্বাসের মাজারে নেওয়া হবে। খামেনির ইচ্ছানুযায়ী আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।