ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আসর। তিনটি মহাদেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে ইতোমধ্যে ছয়টি দেশ স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
মূল আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগাল এবং আফ্রিকার মরক্কো। অন্যদিকে, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক উরুগুয়েকে সম্মান জানাতে শতবর্ষের বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী পর্বের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। ফলে ছয়টি দেশই স্বাগতিকের মর্যাদা পাওয়ায় ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তারা সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোকে যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও এই আয়োজনের বিডিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের অক্টোবরে এবং শেষ হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে।
শুরুতে মরক্কো এককভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা করলেও পরে স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথ প্রস্তাব জমা দেয়। শেষ পর্যন্ত সেটিই একমাত্র বৈধ প্রস্তাব হিসেবে অনুমোদন পায়।
বিশ্বকাপের শতবর্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ফিফা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিও, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনেস এইরেস এবং প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনে। এরপর অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইউরোপ ও আফ্রিকায় গিয়ে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো খেলবে।
শতবর্ষের এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হবে মন্টেভিডিওর ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়াম। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই ভেন্যুতেই।
এছাড়া উদ্বোধনী পর্বের অন্য দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বুয়েনেস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল এবং আসুনসিওনের এস্তাদিও ওসভালদো ডোমিঙ্গেজ দিব স্টেডিয়ামে।
ফিফার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ শুরু হবে ৮ জুন এবং শেষ হবে ২১ জুলাই। মোট ৪৪ দিনব্যাপী চলা এই টুর্নামেন্ট হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ আসর। তিন মহাদেশে ম্যাচ আয়োজন, উদ্বোধনী পর্বের বিশেষ আয়োজন এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর দীর্ঘ ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এবার সূচি আগের যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় দীর্ঘ রাখা হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ