ম্যাচ শেষ হতে বাকি আর মাত্র ১১ মিনিট। ঘড়ির কাঁটায় তখনো মিশর ২-০ গোলে এগিয়ে। আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন যখন প্রায় ফিকে হয়ে আসছিল, ঠিক তখনই ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়ে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়াল আলবিসেলেস্তেরা।
লিওনেল মেসির পিন-পয়েন্ট ক্রসে প্রথমে গোল ব্যবধান কমান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এর কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনা অধিনায়ক নিজেই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। আর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের সেই অবিস্মরণীয় জয়সূচক গোল!
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা। নকআউটের এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের খাতায় লেখা হয়ে থাকবে, যদিও শেষ বাঁশি বাজার আগের মুহূর্তগুলো ছিল বেশ বিতর্কিত।
ইতিহাস বলছে, এর আগে বিশ্বকাপে এক গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার পর কখনো ম্যাচ জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। আর দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর তো জয়ের কোনো নজিরই ছিল না। অবশেষে নিজেদের ১৪তম বারের চেষ্টায় দুই গোল খাওয়ার পর এমন মহাকাব্যিক জয় তুলে নিল তারা।
ম্যাচ শেষে ডাগআউটে ও সংবাদ সম্মেলনে নিজের আবেগকে আর ধরে রাখতে পারেননি বিশ্বজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ শেষের অনুভূতি জানাতে গিয়ে রীতিমতো বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। অশ্রুসিক্ত চোখে স্কালোনি বলেন, ‘আমি মাথা তুলে তাকাতে পারছি না, দুঃখিত। আমি এখন ভীষণ আবেগাপ্লুত।’
গলা ধরে আসায় সংবাদ সম্মেলনে বেশিক্ষণ কথা বলতেই পারলেন না আলবিসেলেস্তেদের এই মাস্টারমাইন্ড। শুধু শিষ্যদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে সংক্ষিপ্তভাবে বললেন, ‘কী অসাধারণ একঝাঁক খেলোয়াড়, ভাই! ব্যস এটুকুই, আমাকে এখন যেতে হবে।’ এই বলেই ড্রেসিংরুমের দিকে পা বাড়ান কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা আবেগাপ্লুত স্কালোনি।
সময়ের আলো/জেডি