আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে তখন চলছে চরম উত্তেজনা। ম্যাচের ঘড়িতে তখন ৬০ মিনিট। হাইসাম হাসানের চোখ ধাঁধানো দৌড়, মোহাম্মদ সালাহর জাদুকরী পাস আর মোস্তফা জিকোর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছিল মিশরীয় শিবির। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। জার্সি খুলে বুনো উদযাপনের জন্য জিকোকে হলুদ কার্ড দেখতে হয়, আর ঠিক তখনই রেফারি বাজান ভিএআর-এর বাঁশি। আক্রমণের শুরুতে ফাউল হওয়ার কারণে বাতিল হয়ে যায় সেই চোখ ধাঁধানো গোল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আলবিসেলেস্তেরা।
ভিএআর-এর নাটকের ঠিক ৭ মিনিট পর, অর্থাৎ ৬৭তম মিনিটে আর কোনো ভুল করেনি ফারাওরা। আরও একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে হাইসাম হাসানের পাস ধরে বক্সের মাঝখান থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের ঠিক মাঝখানে জড়ান মোস্তফা জিকো। এবার আর কোনো ফাউল ছিল না, কোনো ভিএআর-এর রিভিউ ছিল না। রেফারি গোলের বাঁশি বাজানো মাত্রই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার চরম শঙ্কায় পড়েছে স্কালোনির শিষ্যরা।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার ঠিক এক মিনিট আগে (৬৬ মিনিটে) আর্জেন্টিনা ডাগআউটে বড় পরিবর্তনের আভাস দেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে তিনি ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে উঠিয়ে মাঠে নামান নিকো গঞ্জালেসকে। একই সাথে মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় ইন্টার মিলানের স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেসকে। অল-আউট ফুটবলের এই জুয়া স্কালোনিকে ম্যাচে ফেরাতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয় মিশরের ইমাম আশুরকে, তাঁর পরিবর্তে মাঠে আসেন হামদি ফাতি। প্রথমার্ধের লিড ধরে রাখতে মিশর ৯ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে রক্ষণভাগের পেছনে দেয়াল তুলে দেয়। ৪৮ মিনিটে মেসির পাস থেকে রদ্রিগো ডি পলের দূরপাল্লার নিচু শট সহজেই রুখে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক শুবায়ের। ৫২ মিনিটে মেসির আরও একটি দূরপাল্লার ফ্রি-কিক শুবায়ের পাঞ্চ করে ফিরিয়ে দিলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফিরতি বলে শট নেন, যা বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
৫৫ মিনিটে মেসির বানিয়ে দেওয়া একটি শর্ট ফ্রি-কিকও হেলায় হারায় আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডরা। বল চলে যায় মাঝমাঠে। আর্জেন্টিনা যখন আক্রমণের পর আক্রমণ করে মিশরকে চেপে ধরার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই প্রতি-আক্রমণের ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দিল মিশর।