চট্টগ্রামে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরের কর্মক্ষমতা, পরিচালন উপযোগিতা এবং পণ্য ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। বন্দর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অখালাসকৃত এবং পড়ে থাকা নিলামযোগ্য বিপুল পরিমাণ পণ্যের জট কমাতে চলতি জুলাই মাসে মোট ১৬৮টি পণ্যবাহী কনটেইনার ইলেকট্রনিক নিলাম (ই-নিলাম) প্রক্রিয়ার বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
কাস্টম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান কনটেইনার জট সম্পূর্ণভাবে নিরসন করা, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা। নিয়মিতভাবে নিলাম আয়োজনের অংশ হিসেবে এবারের জুলাই মাসের এই বিশেষ উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে, যা বন্দরের সামগ্রিক গতিশীলতা এবং কাজের পরিধি অনেক বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের নিলাম প্রক্রিয়াটি দুটি আলাদা ভাগে বা পর্যায়ে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারিকৃত নিলামের স্থায়ী আদেশ এবং বিশেষ আদেশ অনুসারে বিশেষ ই-নিলাম নম্বর ০৮/২০২৬-এর আওতায় মোট ৭৬টি লটে ৯৩টি কনটেইনার পণ্য বিক্রি করা হবে।
এই বিশেষ নিলামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো, এখানে কোনো সংরক্ষিত মূল্য বা ন্যূনতম দরমূল্য নির্ধারণ করা থাকছে না। ফলে ক্রেতারা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন। এই ভাগে নিলামে ওঠা পণ্যের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান, পিচ বা বিটুমিন, ভারী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিকসামগ্রী, বিশেষ হিমায়ক বা চেস্ট ফ্রিজার, নল বা পাইপ, বিভিন্ন প্রকারের পোশাক ও কাপড়, কাগজ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্যসামগ্রী।
অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী সাধারণ ই-নিলাম নম্বর ০৭/২০২৬-এর অধীনে আরও ৫৫টি লটে মোট ৭৫টি কনটেইনার পণ্য নিলামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই ভাগের পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার মূলধনী যন্ত্রপাতি, উন্নত মানের কাপড় বা ফেব্রিক্স, পিভিসি ব্যানার, ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যাট, চলন্ত সিঁড়ি বা এলিভেটর, বায়ু শোধন যন্ত্র বা এয়ার ফিল্টার, বিশেষ ধরনের ক্রাফট কাগজ এবং বাণিজ্যিক লবণসহ আরও নানা রকমের আমদানি করা পণ্য।
এই নিলাম কার্যক্রমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, সততা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পুরো প্রক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল উপায়ে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিলাম প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহলে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং গ্রহণযোগ্য করতে ক্রেতাদের জন্য পণ্য সরেজমিন পরিদর্শনের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ই-নিলাম নম্বর ০৭/২০২৬-এর আওতাধীন পণ্যগুলো আগামী ১৩ জুলাই থেকে ২০ জুলাই এবং বিশেষ ই-নিলাম নম্বর ০৮/২০২৬-এর পণ্যগুলো আগামী ১৬ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত অফিস চলাকালে সরাসরি পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আগ্রহী ক্রেতারা কোনো ধরনের শারীরিক ভোগান্তি ছাড়াই নিজেদের ঘরে বসে কাস্টমসের নির্ধারিত অফিসিয়াল নিলাম পোর্টালে নিবন্ধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। ই-নিলাম নম্বর ০৭/২০২৬-এর দরপত্র আগামী ১২ থেকে ২২ জুলাই বেলা ৩টা পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-নিলাম নম্বর ০৮/২০২৬-এর দরপত্র ১৪ থেকে ২৬ জুলাই বেলা ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে।
তবে দরপত্র দাখিলের সময় প্রস্তাবিত মূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানত হিসেবে ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাগজের অনুলিপি বা স্ক্যান কপি ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দিতে হবে। চূড়ান্তভাবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের দেশের প্রচলিত আমদানি নীতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্তাবলি মেনে পণ্যগুলো বন্দর থেকে খালাস করে নিতে হবে।
কর্তৃপক্ষের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ জুলাই বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে প্রথম নিলামের দরপত্র বাক্স এবং ২৭ জুলাই বেলা ১১টায় বিশেষ নিলামের দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক নিলাম কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং দেশের জাতীয় সম্পদের সঠিক ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি