বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অবাধে বিক্রেয় হচ্ছে হরেক রকমের মাদক। দিনদুপুরে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক কেনাবেচা ও সেবন। এই মরণনেশায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। মাদকের এমন ভয়াবহ বিস্তারে অতিষ্ঠ ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
যদিও পুলিশের দাবি, মাদক নির্মূলে তাদের তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অনুসন্ধান ও সরেজমিনে জানা গেছে, সান্তাহার পৌর শহরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন বড় মাদক ডিলার রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা বিভিন্ন মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে সান্তাহারে একটি শক্তিশালী মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। এই ডিলারদের মাধ্যমেই পৌর শহরের অন্তত ২০টি স্পটে প্রতিদিন ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন রকমের মাদক বিক্রি হচ্ছে।
মাদক বিক্রির প্রধান স্পটগুলোর হলো, পৌর শহরের চা-বাগান, হরিজন কলোনি, নাটোর বাইপাসের শান্তিনগর, মালসন, তারাপুর, ইয়ার্ড কলোনি, বসুন্ধরা বটতলী, রথবাড়ি, মালগুদাম, হাটখোলা, হঠাৎপাড়া, বশিপুর বাইপাস, পৌঁওতা স্কুল মাঠ, তিয়রপাড়া মোড়, দৈনিক বাজার এবং রেলস্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।
বিভিন্ন অভিনব কৌশল অবলম্বন করে ট্রেন ও দূরপাল্লার বাসযোগে সান্তাহারে মাদকের চালান ঢুকছে। এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তারা মাঝে মধ্যে গ্রেফতার হলেও, আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই কারবারে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খুচরা ও ছোটোখাটো মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীরা প্রায়ই ধরা পড়লেও, পর্দার আড়ালে থাকা মূল হোতা ও রাঘববোয়ালরা সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
এদিকে মাদকের টাকা জোগাড় করতে সেবনকারীরা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক, সিদ্দিকুর রহমান, জাকিরুল ইসলাম, রাজু আহমেদ বলেন, হঠাৎ করে নানা ধরনের মাদক পৌর এলাকায় ছেয়ে গেছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, মাদকের বিষয়ে ছাড় নেই। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মাদক কারবারি যেই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (আদমদীঘি সার্কেল) আসিফ হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাদক নির্মূল ও মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/জোই