আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ১৬–এর ম্যাচে ৩-২ গোলের নাটকীয় হারের পর রেফারিং নিয়ে ক্ষুব্ধ মিশর। মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোর দাবি, ম্যাচটি ছিল 'পাতানো'। তিনি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগাম অভিনন্দন জানানোর ব্যপারেও বলেছেন।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন ঘটানোর পথে ছিল মিশর। ম্যাচের প্রায় ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তের জন্ম দিয়েছিলেন জিকো নিজেই। দারুণ এক আক্রমণ থেকে তার করা গোলটি ভিএআরের সহায়তায় বিল্ড-আপে ফাউলের অভিযোগে বাতিল করা হয়। এছাড়া, ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের ঠিক আগে পেনাল্টি বক্সে মোহাম্মদ সালাহকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে মিশর দাবি করলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি।
ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে জিকো বলেন, ‘এটা একটা পাতানো ম্যাচ ছিল। এটা আমাদের দোষ নয়। ওই রেফারি... মনে হচ্ছে ম্যাচটাই আগে থেকে ঠিক করা ছিল। আমরা ২-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম, তারপরও তিনি বারবার আমাদের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের আগাম অভিনন্দন জানাই- এমনটাই মনে হচ্ছে। আমরা কখনোই ভাবিনি ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। আমরা জানতাম, আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেফারির পারফরম্যান্স ভালো ছিল না, তিনি অন্যায় করেছেন। তার পক্ষপাত স্পষ্ট ছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আমাদের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি চাননি আমরা জিতি। ম্যাচ শুরুর আগেই জানতাম, আমরা খুব শক্তিশালী এবং শিরোপার অন্যতম দাবিদারের বিপক্ষে খেলছি। কিন্তু তারা যদি শুধু নিজেদের যোগ্যতায় জিতত, তাহলে বিষয়টা আমাদের জন্য একেবারেই ভিন্ন হতো।’
তবে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্যই শুধু মিশরের বিদায় হয়েছে, এমনটা বলা যাবে না। নির্ধারিত সময় শেষ হতে মাত্র ১২ মিনিট (এবং ইনজুরি টাইম) বাকি থাকতে তারা ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। এত বড় লিড ধরে রাখতে না পারার দায়ও তাদেরই। বিতর্ক থাকলেও, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এমন সুবিধাজনক অবস্থান থেকে ম্যাচ হারানোর জন্য মিশর নিজেদেরও দায় এড়াতে পারে না।
নিজের প্রথম গোল বাতিল হওয়ার পরও জিকো পুনরায় মিশরকে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করেছেন, কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। মেসির অনুপ্রেরণায় টানা ৩ টি গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করে আর্জেন্টিনা, আর বিদায় নিতে হয় মিশরকে।
সময়ের আলো/মহু