ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মিসর জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তার আবেগঘন ও বলিষ্ঠ সমর্থন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি বৈশ্বিক এই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার অধিকারের পক্ষে জোরালো বার্তা দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলনে আরবি ভাষায় কথা বলার সময় হাসান অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এই পৃথিবীতে যদি এমন একজন মানুষও থাকেন, যিনি ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব করেন না— তাহলে তিনি মানুষই নন। তিনি আরও যোগ করেন, এই মানবিক আহ্বান ধর্ম, বর্ণ, দেশ বা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে।
বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের প্রতি উদাসীনতার সমালোচনা করে কোচ বলেন, অনেক সময় প্রাণীর ক্ষতি হলে মানুষ সোচ্চার হয়ে ওঠে, অথচ প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার মানুষ, শিশু ও নারী প্রাণ হারাচ্ছেন। ক্রীড়াবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনুগ্রহ করে, ক্রীড়াবিদ ও সাংবাদিকরা— আপনারা নিজেদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একটি বার্তা দিন। ফিলিস্তিনি জনগণকে বাঁচতে দিন। তাঁরা কিছুই চান না, কেবল বেঁচে থাকার অধিকারটুকু চান।
এর আগে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের জয়ের পর মাঠের ভেতরে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে উদযাপন করেন হোসাম হাসান। তাঁর সেই প্রতীকী প্রতিবাদ ও সংহতি প্রকাশের ছবিটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
হাসানের এমন সাহসী ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব। তিনি হাসানের অবস্থানকে ‘মানবিক ও মহৎ’ বলে অভিহিত করেছেন।
মিসরীয় ক্রীড়া সাংবাদিক আহমেদ এল-এরিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, বৈশ্বিক কোনো আসরে মিসরের দলের কারো মুখে এমন বক্তব্য শোনা অভাবনীয় ছিল। হাসানের এই অবস্থান ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও সাহসী।
ফিলিস্তিনি লেখক ইয়াসের জাআতরেহ লিখেছেন, হাসান বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের চেয়েও বড় গৌরব অর্জন করেছেন। তিনি মানবতা ও নীতির ম্যাচে জয়ী হয়েছেন। কায়রোতে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত সালিহ মুতলু সেন এবং মিসরীয় গোলরক্ষক আহমেদ শোবেইরও কোচের এই অবস্থানের প্রশংসা করেছেন।
এদিকে, আল জাজিরা গাজা থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা হোসাম হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন।
সবশেষে, ফিফার ‘সম্মান ও ফেয়ার প্লে’ স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে হোসাম হাসান বলেন, আমরা শুধু খেলার মাঠ নয়, বরং বাস্তব জীবনেও ন্যায়বিচার ও মানুষের প্রতি সম্মান চাই। বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিটি মানুষের সহজাত অধিকার, আর সেই সত্যটির প্রতিই সম্মান জানানো প্রয়োজন।
সময়ের আলো/আআ