কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সমাজ ও রাষ্ট্রে গুজব, অপতথ্য এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা মোকাবেলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯-এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংসদে দেওয়া লিখিত জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি নজরদারির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ, সংবাদমাধ্যমের আদলে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, পিআইবির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত মোট ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি প্রতিবেদন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি বিভ্রান্তিকর দাবির সত্যতা যাচাই করে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতা ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে আধুনিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়ে পেশাদার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত ২০টি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ৭৩৯ জন সাংবাদিক। এসব আয়োজনের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্টচেক বিষয়ক ১৪টি বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি কর্মশালাতেই গুজব মোকাবেলা, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় এআইয়ের সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার সুবিধার্থে শিগ্গিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ বা নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে এবং ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সরকারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।
সময়ের আলো/জেডি