যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষ ও হট্টগোলের খবর ভিত্তিহীন দাবি করে সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, কমিটিতে পদবঞ্চিত কারা তা তিনি জানেন না। বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে সমসাময়িক রাজনীতি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মোনায়েম মুন্না বলেন, “আগের কমিটি ছিল ২৫১ সদস্যের, এবার তা ১৫১ করা হয়েছে। এমনিতেই ১০০ জন বাদ পড়েছেন, একে কি পদবঞ্চিত বলা যায়? আমরা দেখছি যারা মানববন্ধন বা অনশন করছেন, তাদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০-২১ জন। এই সংখ্যাকে আপনারা এত গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন? ত্যাগের কথা বলছেন, যারা কমিটিতে এসেছেন তাদের প্রত্যেকের ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে।”
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে হট্টগোলের খবর নাকচ করে তিনি বলেন, সংগঠনের স্বার্থে মতানৈক্য হতেই পারে, তবে তারা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একই সাথে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট যুবদলকে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ ছড়াচ্ছে অভিযোগ করে সংবাদ প্রকাশের আগে সাংবাদিকদের তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনকে গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে ১০টি বিভাগে ৩১টি টিম গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠন করা হবে জানিয়ে যুবদল সভাপতি বলেন, সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক চর্চার স্বার্থে বেআইনি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে।
বিগত জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহিদ এবং শত শত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন উল্লেখ করে মুন্না বলেন, শহিদ পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা, আহতদের চিকিৎসা, নদী-খাল পরিচ্ছন্নতা এবং গৃহহীনদের ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আগামী দিনেও রক্তদান, বৃক্ষরোপণ ও ত্রাণ বিতরণের মতো কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, যুগ্ম সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল প্রমুখ।
সময়ের আলো/জেডি