তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের রায় আজ ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেবেন। টানা তিন দিনের শুনানি শেষে বুধবার মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল পঞ্চদশ সংশোধনী-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানান। অন্যদিকে, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া পঞ্চদশ সংশোধনীকে ‘প্রতারণামূলক’ আখ্যা দিয়ে এটি সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানান। তবে সংবিধানের ৯৬ ও ১০২ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা বহাল রাখার আবেদন করেন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আইনজীবী শিশির মনিরও শুনানি শেষে বলেন, সংশোধনীর যেসব অংশ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলো বাতিল করে বাকি বিষয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে।
এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। সে সময় বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
পৃথক দুটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি অংশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। ওই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ তৈরি হলেও কিছু আইনি জটিলতা থাকায় পৃথক তিনটি আপিল করা হয়।
২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
সময়ের আলো/কেএইচও