বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর সাগরে পৃথক তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবে গেছে। এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে উত্তাল সাগরের কারণে আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মহিপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা ট্রলারডুবির তিনটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চর বিজয়সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে একটি ছোট মাছধরা ট্রলার ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকি পাঁচ জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১৭ কিলোমিটার গভীরে ১৮ জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় ফকিরহাটের ‘এফবি মহিমা’ নামের একটি ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও দুই জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি।
অন্যদিকে, গত রোববার বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে গলাচিপার এমদাদুল সিকদারের মালিকানাধীন আরেকটি মাছধরা ট্রলার ১১ জেলেসহ ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর পাঁচজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গলাচিপার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে থাকা মো. জহিরুন্নবী জানান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়া, উত্তাল সাগর ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযানে বিঘ্ন ঘটছে। এরপরও নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/এসএকে