টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের রাধাপুর এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রবল স্রোতের মুখে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কয়েক হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই রাধাপুর গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। বেশ কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়ি পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শত শত মানুষ। কৃষকদের চোখের সামনে তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজির খেতসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬১ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, খোয়াই নদীর চুনারুঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, খোয়াই নদীর বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার তেঘড়িয়া ইউনিয়নের ভাদৈই ব্রীজসংলগ্ন এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা দিন-রাত স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নিলে আজকের এই ভয়াবহ ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হতো।
এলাকাবাসী দ্রুত ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/মহু