টানা অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে প্লাবিত হয়েছে অসংখ্য মাছের পুকুর, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মৎস্যচাষীরাও।
বুধ (৮ জুলাই) ও বৃহস্পতিবারসহ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকার অধিকাংশ কৃষিজমিতে পানি জমে রয়েছে। কোথাও আউশ ধান আংশিক, আবার কোথাও সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে গেছে। অনেক জমিতে পানি এখনও বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় কৃষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সন্দ্বীপে প্রায় ৮ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার ২৭০ হেক্টর জমির ধানচাষ বর্তমানে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, শুধু অতিবৃষ্টিই নয়, অনেক স্থানে খাল ও পানি চলাচলের পথ বাঁধ দিয়ে আটকে রাখার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে, জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে ধানের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন শাকসবজিরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে, টানা বর্ষণের প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতেও।
উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিতে প্রায় ৪৩৫টি পুকুর, যার মোট আয়তন প্রায় ৬৫ হেক্টর, প্লাবিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন পুকুর থেকে মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় অনেক খামারি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তবে, কৃষক ও মৎস্যচাষিরা আশা করছেন, বৃষ্টি দ্রুত কমে গিয়ে জমি ও পুকুরের পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমে আসবে। অন্যথায়, আউশ ধান, আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজি এবং মাছ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সময়ের আলো/মহু