বর্ষা মানেই হাওরের টান, আর সেই টানকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ২য় বাংলাদেশ হাউজবোট ফেয়ার-২০২৬।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন ভবনে শৈলপ্রপাত হলে শুরু হওয়া এ মেলার আয়োজন করেছে হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এইচওএবি)। মেলা চলবে শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত।
মেলায় এক ছাদের নিচে মিলছে দেশের শতাধিক হাউজবোট প্রতিষ্ঠানের প্যাকেজ, থাকছে বিশেষ মূল্যছাড় ও আগাম বুকিংয়ের সুযোগ। শুধু পর্যটন নয়, হাওরের পরিবেশ রক্ষা করেই টেকসই জলভিত্তিক পর্যটন গড়ে তোলার বার্তাও দিচ্ছেন আয়োজকেরা।
টাঙ্গুয়ার হাওর, কাপ্তাই লেক ও পদ্মাসহ দেশের জলভিত্তিক পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করতে আয়োজন করা হয়েছে এই মেলার। দর্শনার্থীরা সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে প্যাকেজ, নিরাপত্তা, খাবার, ভ্রমণপথ ও বুকিং-সংক্রান্ত তথ্য জেনে নিজের পছন্দের হাউজবোট বেছে নিতে পারছেন। মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকছে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ও।
বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন হাওর এলাকায় বাড়ছে হাউজবোট ভ্রমণের চাহিদা। সাধারণত দুদিন-একরাতের প্যাকেজে পাঁচ বেলার খাবারসহ নন-এসি বোটে জনপ্রতি খরচ ৪-৮ হাজার এবং এসি বোটে ৮ থেকে ১৪ হাজার টাকার মধ্যে। তাই আগাম বুকিংয়ে বাড়তি আগ্রহ দেখাচ্ছেন ভ্রমণপ্রেমীরা।
হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন ফারুক জানান, জলভিত্তিক পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা তৈরি করাও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে ১২০টির বেশি হাউজবোট প্রতিষ্ঠান। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ১০০ টাকার লটারি কুপন, যেখানে বিজয়ীরা সঙ্গীসহ বিলাসবহুল হাউজবোট ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
এছাড়া, টেকসই পর্যটন বিকাশে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান জানান, এমন আয়োজন দেশের জলভিত্তিক পর্যটন শিল্পকে আরও এগিয়ে নেবে এবং হাওরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বাড়াবে।
প্রসঙ্গত, এবারের মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে দ্য হাওর সেইল এবং পাওয়ারড বাই ঘুরিং ফিরিং। আয়োজনে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। এছাড়া মেলার মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে দৈনিক সময়ের আলো ও দৈনিক ইত্তেফাক।
সময়ের আলো/জেডআই