জলবন্দি জীবন : মনপুরায় আজ মানুষের চেয়ে দুঃখের পরিধি বড়

মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

টানা ছয় দিনের বর্ষণে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। খাল-বিল, বসতবাড়ি ও সড়ক পানিতে একাকার হয়ে

2026-07-10T19:07:15+00:00
2026-07-10T19:07:15+00:00
 
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
জলবন্দি জীবন : মনপুরায় আজ মানুষের চেয়ে দুঃখের পরিধি বড়
মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৭ পিএম 
ছবি : সময়ের আলো
টানা ছয় দিনের বর্ষণে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। খাল-বিল, বসতবাড়ি ও সড়ক পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে। এতে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অবিরাম বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ। ঘর থেকে বের হতে না পারায় দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবারের চুলায় হাঁড়ি উঠছে না। কেউ চিড়া ও মুড়ি খেয়ে দিন পার করলেও অনেকেই অর্ধাহারে-অনাহারে রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তা চেয়েছেন।

দীর্ঘ সময় ধরে পানি আটকে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্যানিটেশন সমস্যা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। এদিকে দুর্গত এলাকায় রাজনৈতিক ব্যক্তি বা উপজেলা প্রশাসনের কেউ এখন পর্যন্ত খোঁজ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কেউ ত্রাণ নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।

শুক্রবার সকাল থেকে থেমে থেমে অঝোর ধারায় বৃষ্টি হয়েছে। সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হলেও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক পরিবারের ঘরের ভেতর ও উঠানে পানি জমে রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের খাড়ির খাল এলাকা, মাস্টারহাট, লতাখালী ও বাতানখালী এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। এছাড়া বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে।


দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রাম, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ও চরযতিনের নিম্নাঞ্চল, সোনারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশেও পানি জমে রয়েছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিরপাড় এলাকাতেও।

হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা শরিফ হোসেন ও আছমা বেগম, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ডা. কামাল হোসেন ও শ্রীকৃষ্ণ, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের রিপন ও হাসান এবং মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদার, জিসান চন্দ্রদাস ও শুভ্র অভিযোগ করেন, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই চারপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া উপজেলার কয়েকটি স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো এবং বিভিন্ন খাল স্থানীয়ভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে লোকালয়ে পানি আটকে থাকছে। তারা দ্রুত স্লুইসগেট মেরামত, খাল পুনঃখনন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানান।


দুর্গত এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, এখন পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজ-খবর নেয়নি। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, সারাদেশের মতো মনপুরাতেও টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশনের সুবিধা বাড়াতে খাল খনন কর্মসূচির প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

সময়ের আলো/আরবিএন 



  বিষয়:   ভোলা  দ্বীপ  মনপুরা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: