বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাজার এলাকার একটি অংশ প্রতিনিয়ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় নিরাপদ পারাপারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে বার্থী বাজার, বার্থী তারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বার্থী ডিগ্রি কলেজ, একটি মাদরাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন হাজারো মানুষ মহাসড়ক পার হয়ে যাতায়াত করলেও সেখানে নেই জেব্রা ক্রসিং, স্পিড ব্রেকার, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ কিংবা পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের ফাঁক গলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছে। সন্তান নিরাপদে বিদ্যালয়ে পৌঁছাবে কি না এই উৎকণ্ঠায় প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকেন অভিভাবকরা। তাদের ভাষ্য, সামান্য অসতর্কতাই কেড়ে নিতে পারে একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ।
এলাকাবাসীর মতে, প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে মহাসড়কটি কার্যত একটি ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এখানে ‘সামনে স্কুল’, ‘ধীরে চলুন’, ‘শিক্ষার্থী পারাপার’ কিংবা নির্ধারিত গতিসীমা নির্দেশক কোনো সুস্পষ্ট সাইনবোর্ড নেই। ফলে অধিকাংশ যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বার্থী তারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গবিন্দ চন্দ্র নাগ বলেন, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই মহাসড়ক পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসে। তাদের রাস্তা পারাপারের সময় আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি। শুধু জেব্রা ক্রসিং করলেই হবে না, ফুটপাত দখলমুক্ত করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্কুলসংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বার্থী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক জহির উদ্দিন দোলন বলেন, আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার হচ্ছে। এখানে অবিলম্বে জেব্রা ক্রসিং, স্পিড ব্রেকার এবং ‘সামনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ ও ‘ধীরে চলুন’ লেখা সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন করা প্রয়োজন। দুর্ঘটনার আগেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, ফুটপাত দখলের কারণে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মহাসড়কের দুই পাশের অধিকাংশ জায়গায় বালু, ইট, কাঠ, নির্মাণসামগ্রী ও বিভিন্ন পণ্য রেখে ব্যবসা পরিচালনা করায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করছেন। এতে সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বার্থী বাজারের ব্যবসায়ী মো. কামরুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাত পথচারীদের জন্য হলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের বাধ্য হয়ে মহাসড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, এ এলাকায় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার গতিসীমা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় স্থানে স্পিড ব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং, গতিনিয়ন্ত্রণমূলক রাম্বল স্ট্রিপ এবং দৃশ্যমান সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/আরবিএন