বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, আমরা বাংলাদেশে একটি সুষম সমাজ তৈরি করতে চাই, যেখানে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমে আসবে এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর হবে। এ দেশের মানুষ যাতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে কাজ করে হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) নরসিংদীর মাধবদী থানায় খান ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মাতা মরহুমা খোরশেদা বানুর’ স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
উপস্থিত নারী সমাজের উদ্দেশ্যে ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, নিজের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হয়ে উঠুন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছ— নিজের অধিকার যতক্ষণ না নিজেরা আপনারা কেড়ে নেবেন, ততক্ষণ কিন্তু কেউ তা দেবে না। আমরা বড়োজোর আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পারি, সহায়তা করতে পারি; সেটি প্রতিনিয়ত করে আসছি।
নিজের পরিবারকে এ দেশের কোটি কোটি পরিবারের মতোই অত্যন্ত সাধারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার পিতা (মরহুম আব্দুল মোমেন খান) ক্যাবিনেট সচিব ছিলেন এটা সত্যি, কিন্তু তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ক্যালকাটা গভর্নমেন্ট কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে। এমনকি আমার পিতামহ আব্দুল বারিক খানও একজন শিক্ষক ছিলেন এবং তিনি ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন।’
মরহুমা খোরশেদা বানুর স্মৃতিচারণ করে সভাপতির বক্তব্যে খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার বলেন, তিনি ছিলেন একাধারে একজন স্নেহময়ী মা ও নিভৃতে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া এক মহীয়সী নারী। তারই সুযোগ্য সন্তান ডক্টর আব্দুল মঈন খান আজ শুধু নরসিংদী নয়, সারা দেশে তার পিতা-মাতার নাম উজ্জ্বল রেখেছেন।
রোখসানা খন্দকার আরও বলেন, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে ডক্টর আব্দুল মঈন খান ও তার মাতা খোরশেদা বানুর উদ্যোগে নরসিংদী এলাকায় ব্যাপক পুনর্বাসন ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হয়, যা আজও চলমান। পিছিয়ে পড়া ও সুবিধা-বঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করতে ১৯৯৩ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে ‘খান ফাউন্ডেশন’। নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে এই বছরও ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকায় প্রায় ১৪ কোটি টাকার গ্রামীণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে স্কাইপে মঈন খানের তিন মেয়ে নওশিন খান, নওরিন খান ও নাহরিন খান বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া নরসিংদী জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মিলেনিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, স্থানীয় সুধীসমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং খান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী নারী সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
মাহফিল শেষে মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
সময়ের আলো/জেডি