‘সাগরে যাই, টাকা না পেলেও মাছ তো পাব’— জীবিকার তাগিদে বাড়ি থেকে গভীর সমুদ্রে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে এই কথাটিই বলেছিলেন জেলে কালাম খান। কিন্তু সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ কথা।
নিখোঁজের চার দিন পর শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বঙ্গোপসাগর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একই ট্রলারের নিখোঁজ জেলে মো. শহিদের (৫০) সন্ধান এখনও মেলেনি।
মৃত কালাম খান বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোট আমখোলা গ্রামের কাজল খানের ছেলে। অন্যদিকে নিখোঁজ শহিদ একই গ্রামের সেরাজ মিস্ত্রির ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন ‘এমবি মহিমা’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার গভীর সমুদ্রে আকস্মিক বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১৮ জন জেলের মধ্যে দুর্ঘটনার পরদিন ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও কালাম ও শহিদ নিখোঁজ থাকেন।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে স্থানীয় জেলেরা গভীর সাগরে ভাসমান অবস্থায় কালাম খানের মরদেহ উদ্ধার করেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সন্ধ্যায় মরদেহটি ছোট আমখোলা গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছালে পুরো জেলে পল্লীতে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাবার জন্য সন্তানদের কান্না আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামীণ পরিবেশ।
এদিকে নিখোঁজ মো. শহিদের পরিবারের সদস্যরা এখনও প্রিয়জনের ফেরার আশায় পথ চেয়ে আছেন। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর থেকে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে কোনো উদ্ধার তৎপরতা বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলেরাই নিজেদের উদ্যোগে ১৬ জনকে জীবিত এবং আজ কালামের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। শহিদকে উদ্ধারে সরকারিভাবে জোরদার অভিযানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলে ও স্বজনদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নিখোঁজ শহিদের সন্ধানে স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় সাগরে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি