বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় থানা পরিদর্শন করে আহত পুলিশ সদস্যদের খোঁজ খবর নিয়েছেন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে আগৈলঝাড়া থানায় পৌঁছে হামলায় ভাঙচুর করা কক্ষ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী আহত পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পরে তথ্যমন্ত্রী আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগদান করেন। এসময় সাংবাদিকরা থানায় হামলার ঘটনার পুলিশের দায়ের করা মামলায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল রিপন ও সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামকে আসামি করার বিষয়টি তথ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই হামলার ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে এ ঘটনায় যেন কোন নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়টিও দেখা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খাঁন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহম্মেদ পান্না, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম, সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানাসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
উল্লেখ্য, ফুলশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় সন্ধিগ্ধ আসামি হিসেবে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানার হাজতখানার লোহার দরজায় রিয়াজ নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ও পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
পরেরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পরলে তার আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানার ভিতরে ঢুকে হামলা চালিয়ে পুলিশকে মারধর ও কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় উভয়পক্ষের ১২ জন আহত হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৪৩ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিনশ' জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত নারী-পুরুষসহ ২২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আলোচিত এ মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির বরিশাল ব্যুরো ইনচার্জ এফএম নাজমুল রিপনকে ২১ নম্বর এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ২৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি