কমতে শুরু করেছে বানের পানি, সামনে আসছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়। এতে পানিবন্দি

2026-07-11T22:46:36+00:00
2026-07-11T22:46:36+00:00
 
  শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬,
২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
কমতে শুরু করেছে বানের পানি, সামনে আসছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম 
বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়। ছবি : সময়ের আলো
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়। এতে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। বসতঘর, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট, পুকুরের মাছ ও গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন দুর্গতরা।

শনিবার (১১ জুলাই) উপজেলার আমিরাবাদ, আধুনগর, বড়হাতিয়া, পদুয়া, চুনতি ও কলাউজানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা থেকে পানি নেমে যেতে দেখা যায়। তবে অনেক স্থানে এখনও জলাবদ্ধতা ও কাদামাটির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, বন্যার সময় অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ওঠে। এতে অসংখ্য পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। পানি নেমে ঘরে ফিরে তারা দেখেন খাদ্যসামগ্রী, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে।

আমিরাবাদ ইউনিয়নের ডলু নদী তীরের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, ‘পানি চলে গেলেও দুর্ভোগ শেষ হয়নি। ঘরের প্রায় সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন করে সংসার গুছিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।’

বড়হাতিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে কয়েকদিন খুব কষ্টে ছিলাম। এখন পানি নামলেও ঘরজুড়ে কাদা। রান্নাবান্না করতেও সমস্যা হচ্ছে।’


আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। বহু বসতঘর, কৃষিজমি ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ চলছে।

বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, বন্যার পানি কমায় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি ত্রাণসামগ্রী এখনও পর্যাপ্ত নয়। দ্রুত সহায়তা পৌঁছালে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   বানের পানি  ক্ষয়ক্ষতির চিত্র 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: