২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড জামিন্তন কাম্পাস। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফসিএফ) এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) এক বিবৃতিতে এফসিএফ জানায়, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কারণে কোনো খেলোয়াড় বা তার পরিবারের সদস্যদের ভীতি কিংবা প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়া উচিত নয়।
গত মঙ্গলবার (৬ জুলাই) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টাইন ক্লাব রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে খেলা কাম্পাস একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। তার নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
ম্যাচের পর হতাশায় মুখ ঢেকে রাখা নিজের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান কাম্পাস।
তিনি লেখেন, ফুটবলে কঠিন মুহূর্তও থাকে। আমার কলম্বিয়া, অনুগ্রহ করে আমরা যেন কখনো সম্মানবোধ হারিয়ে না ফেলি। আমাদের মতভেদ থাকতে পারে, হতাশা বা দুঃখও থাকতে পারে। কিন্তু কোনো আবেগই ঘৃণা ছড়ানো বা কাউকে ভয়ের মধ্যে বাঁচতে বাধ্য করার অজুহাত হতে পারে না।
ঘটনার পর কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে দ্রুত তদন্ত করে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ফেডারেশন আরও বলেছে, ফুটবল হওয়া উচিত ঐক্য, সম্মান ও আশার প্রতীক; কখনোই ঘৃণা, ভয়ভীতি বা সহিংসতার ক্ষেত্র নয়। একই সঙ্গে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, মাঠের হতাশা যেন কখনো বাস্তব জীবনের সহিংসতায় রূপ না নেয়।
এ ঘটনাটি কলম্বিয়ার ফুটবল ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক স্মৃতিও সামনে নিয়ে এসেছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করেছিলেন ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এস্কোবার। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই মেডেলিনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সময়ের আলো/আরবিএন