ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে চীনের বাঁধ : কেন আতঙ্কে ভারত ও বাংলাদেশ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর চীনের নির্মাণাধীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারত

2026-07-13T11:54:48+00:00
2026-07-13T11:54:48+00:00
 
  সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে চীনের বাঁধ : কেন আতঙ্কে ভারত ও বাংলাদেশ?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর চীনের নির্মাণাধীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশের জন্য। বেইজিং-সমর্থিত এক ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাঁধটির নিচ দিয়ে একটি সক্রিয় ভূ-ফাটল (ফল্ট লাইন) বিস্তৃত রয়েছে। এতে ভূমিকম্পপ্রবণ এ অঞ্চলে প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর ওপর বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে চীন। ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও আসামে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত। পরে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নদীটি যমুনা নামে প্রবাহিত হয়।

গত বছর শুরু হওয়া এ প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে এটি চীনের থ্রি গর্জেস বাঁধের প্রায় তিন গুণ বড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির কাজ শুরুর পর থেকেই নদীর নিম্নপ্রবাহের দেশ ভারত ও বাংলাদেশে এর পরিবেশগত প্রভাব এবং পানিপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এবার সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় জিওলজিক্যাল সার্ভের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি গবেষণা।


গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রকল্পের জলাধারের নিচ দিয়ে পাইজেন ফল্ট নামে একটি সক্রিয় ভূ-ফাটল বিস্তৃত রয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রায় ৯ হাজার ৫০০ বছর আগেও এ ফল্টে ভূতাত্ত্বিক নড়াচড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে ভবিষ্যতে ভূমিকম্প বা ফল্টের সক্রিয়তা বাঁধ, সেতু, সড়ক, সুড়ঙ্গসহ পুরো অবকাঠামোর স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এতে আরও বলা হয়েছে, জলাধারের আশপাশের শিলা দীর্ঘদিনের ফল্টের প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং ভূখণ্ডের মাটি তুলনামূলকভাবে আলগা। ফলে ভূমিকম্প, ভূমিধস কিংবা দীর্ঘ সময় জলাধারের পানির চাপে পাহাড় ধসের আশঙ্কাও বেড়ে যেতে পারে। গবেষকরা ২০১৭ সালে তিব্বতে সংঘটিত ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের উদাহরণ দিয়ে জানিয়েছেন, ওই ফল্ট এখনো ভূমিকম্প সৃষ্টিতে সক্রিয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প শুধু প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ নয়, আঞ্চলিক ভূরাজনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ভারত এরই মধ্যে প্রকল্পটি সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নদীর নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে চীনের প্রতি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি যথাযথভাবে মোকাবিলা না করা হলে ভবিষ্যতে এ প্রকল্পকে ঘিরে আঞ্চলিক উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   ভূমিকম্প  ভারত  বাংলাদেশ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: