জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এ হামলায় ঘাঁটির কয়েকটি জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে আগুন ধরে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের মহাকাশ বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সামরিক ঘাঁটির কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকা ও গোলাবারুদ রাখার স্থাপনায় আগুন লাগে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে বলেও দাবি করা হয়।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এটিকে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে ইরানের সমন্বিত প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজের ‘অবৈধ চলাচল’ ঠেকানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় ঘাঁটি ও দক্ষিণাঞ্চলের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে হামলা চালায়।
আইআরজিসি দাবি করেছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত এ বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একই সময়ে ইরানের সেনাবাহিনী কুয়েতে একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ ডিপো ও রাডার স্থাপনায় এবং বাহরাইনে যোগাযোগ ও রাডার কেন্দ্রেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের জবাব হবে আরও কঠোর ও ব্যাপক।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনও চলমান রয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তা বা স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে, হামলার পর প্রকাশিত কিছু স্যাটেলাইট ছবিতে প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন