ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের বাধা দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করাই এ অভিযানের লক্ষ্য।
মার্কিন হামলার ঘোষণার পর ইরানের কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক এবং বন্দর আব্বাসের পশ্চিমাঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের খবর দেয় দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। তবে সর্বশেষ এ হামলায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনাতেও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
এর একদিন আগে মার্কিন বাহিনী ইরানে অন্তত ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে। ওই হামলায় অন্তত দুজন নিহত হওয়ার তথ্যও জানানো হয়। এর জবাবে তেহরান বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার ও জর্ডানে পাল্টা হামলা চালায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর শহরের একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উপ-গভর্নর ভলিউল্লাহ হায়াতি জানান, সোমবার ভোরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ওই স্থাপনায় আঘাত হানে। এতে সেখানে দায়িত্বরত এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন।
তিনি আরও জানান, আহত চারজনের চিকিৎসা চলছে এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে জরুরি ও চিকিৎসা দল কাজ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি ‘খুলে গেছে’। তবে ইরানের পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে না।
রোববার উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করা হয়েছে। তাদের দাবি, মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক ‘অবৈধ তৎপরতার’ কারণে আপাতত এ নৌপথে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়।
সময়ের আলো/আরবিএন