বাংলাদেশে কিংবা ভারতের মাটিতে যেখানেই আত্মসমর্পণ করুন না কেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে জেলেই যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার (১৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রাজনৈতিক বক্তব্য সরকারের নীতিনির্ধারণে কোনো প্রভাব ফেলে না। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গণঅভ্যূত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে প্রায় দুই বছর ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।
এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে অথবা অন্য যেকোনো স্থান থেকে আত্মসমর্পণ করলেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রাজনৈতিক বক্তব্য সরকারের নীতিনির্ধারণে কোনো প্রভাব ফেলে না।
শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশ কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা দেবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু বা অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে সরকার আইনগত ও কূটনৈতিক, উভয় প্রক্রিয়াতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে বলে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ