পশ্চিম ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাবে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছাকাছি এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। প্যারিস থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহর ফঁতেব্লোর আশপাশে আগুনে ইতোমধ্যে ৮০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত দমকলকর্মী কাজ করছেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি মহাসড়কের পাশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রচণ্ড গরম, শুষ্ক আবহাওয়া এবং দমকা বাতাসের কারণে সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল পর্যন্ত আগুন দ্রুত বিস্তৃত হয়ে বিশাল বনাঞ্চল গ্রাস করে।
আগুনের প্রভাবে ফ্রান্সের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলকে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ এ৬ মোটরওয়ের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকার ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় কাছাকাছি ভোদু গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবারের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪০০ দমকলকর্মী নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় সোমবার দুটি জলবর্ষণকারী বিমানও মোতায়েন করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের জাতীয় দমকল বাহিনী ফেডারেশনের কর্মকর্তা এরিক ব্রোকার্ডি জানান, প্যারিস অঞ্চলের এই দাবানল নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ ফ্রান্স থেকে প্রথমবারের মতো অগ্নিনির্বাপক বিমান পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আগুন নেভানোর কাজে দুটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার এবং একটি পর্যবেক্ষণ বিমানও ব্যবহার করা হচ্ছে।
বর্তমানে প্যারিস অঞ্চলসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে, যা দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপজুড়ে যে তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া এতটা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
চলমান তাপপ্রবাহের প্রভাব মোকাবিলায় ফ্রান্স ইতোমধ্যে তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। কর্মকর্তারা এই দাবানলকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, চলতি বছরে দেশজুড়ে দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী খরা, তীব্র গরম এবং শুষ্ক বাতাসের কারণে ফ্রান্সে দাবানল পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ