মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় সুদের হার উঁচু রাখতে পারে বা আরও বাড়াতে পারে, এমন আশঙ্কায় স্বর্ণের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৯৬ দশমিক ৭৬ ডলারে নেমে এসেছে। এটি ১ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫ দশমিক ৭০ ডলারে স্থির হয়েছে।
ফরেক্স ডট কমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের দাম বাড়ছে এবং এর ফলে ফেডারেল রিজার্ভ আরও কঠোর মুদ্রানীতি নিতে পারে। এটি স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের জন্য নেতিবাচক। তেলের দাম যদি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে স্বর্ণের দাম প্রথমে ৩ হাজার ৮০০ ডলারের দিকে নেমে যেতে পারে। বিক্রির চাপ আরও বাড়লে সময়ের সঙ্গে তা ৩ হাজার ৫০০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে।’
সোমবার (১৩ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার দাবির পর ওই প্রণালি দিয়ে পাঠানো সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ফিউচারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের উচ্চ দাম জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। ফলে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় সুদের হার উঁচু রাখতে বা আরও বাড়াতে হতে পারে।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যবসায়ীরা ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন যে মার্কিন ফেড সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়াবে।
এদিকে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসের সামনে প্রথমবারের মতো মুদ্রানীতি-সংক্রান্ত সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে ইঙ্গিত পেতে তার বক্তব্যের দিকে নিবিড় নজর রাখবেন বিনিয়োগকারীরা।
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই), উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই), জুন মাসের খুচরা বিক্রির প্রতিবেদন এবং সাপ্তাহিক বেকার ভাতার আবেদনসংক্রান্ত তথ্য।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৫৫ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৪৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৪৯ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও কমতে পারে স্বর্ণ ও রুপার দাম।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যেকোনও সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।
সবশেষ গত ১৩ জুলাই সকালে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ২ হাজার ২১৬ টাকা ও ১১৭ টাকা কমানো হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। আর ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এছাড়া বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। আর ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
সময়ের আলো/মহু