বন্যার পানি নামতেই শুরু স্বাভাবিক জীবনে ফেরার যুদ্ধ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জাতীয়

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে বন্যার পানি আরও কমেছে। ধীরে ধীরে নিমজ্জিত এলাকাগুলো স্পষ্ট হচ্ছে। তবে বন্যার্তদের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। লাখো

2026-07-15T00:28:46+00:00
2026-07-15T00:36:47+00:00
 
  বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬,
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
বন্যার পানি নামতেই শুরু স্বাভাবিক জীবনে ফেরার যুদ্ধ
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৮ এএম  আপডেট: ১৫.০৭.২০২৬ ১২:৩৬ এএম
স্বাভাবিক জীবনে ফেরার যুদ্ধ। সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে বন্যার পানি আরও কমেছে। ধীরে ধীরে নিমজ্জিত এলাকাগুলো স্পষ্ট হচ্ছে। তবে বন্যার্তদের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। লাখো বাসিন্দা কবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে তা নিয়ে আছে সংশয়। ঘরবাড়ি হারা পরিবারগুলো আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কি না তা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। 

বন্যার্তরা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অন্যরকম যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন। ভেসে ওঠা ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন কাজে নেমে পড়েছেন তারা। ত্রাণের চরম সংকটেও নতুন দিনের আশায় বুক বাঁধছেন। কাদায় একাকার জনপদ কোলাহলমুখর হতে শুরু করেছে। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়, বন্যায় মোট ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৩৯ জন। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৩১ জন (এরমধ্যে স্থানীয় ১৮ জন ও রোহিঙ্গা ১৩ জন)। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন, মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

বন্যাকবলিত সব এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় লোকজন মনোযোগ দিয়েছেন ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন করার কাজে। প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা শুরু করেছেন বন্যার্তরা। পানি নেমে যাওয়ার পরও কাদায় একাকার জনপদ। বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ির 

অবকাঠামো ডুবে আছে পলি মাটিতে। নানা ধরনের বর্জ্যে ডুবে আছে ঘরবাড়ি। এসব এখন নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক জায়গায় অভ্যন্তরীণ সড়ক এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে। সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি সচল হয়নি। এতে বন্যার্তদের মধ্যে জরুরি ত্রাণ মালামাল পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, বন্যায় চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৬০টি বসতঘর এবং ৩৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৩২০ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৪৫টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায়। 

বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ৪ হাজার ৫১৯টি বসতঘর এবং প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতি হয়েছে। সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ২ হাজার ৪৮০টি বসতঘর, ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৮৭ কিলোমিটার সড়ক এবং ৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের ২৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। এতে ২ হাজার ২৪৬টি বসতঘর, ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১২৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

সাতকানিয়া প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলাম বলেন, সাতকানিয়া বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি আরও কমেছে। পানি কমার সঙ্গে ভেসে উঠছে বিপুল ক্ষতির চিহ্ন। তবে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। কৃষি, মৎস্য ও সড়ক খাত মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পৌরসভার উত্তর রামপুর, হাঙরমুখ, গাটিয়াডেঙ্গা ও সামিয়ারপাড়া এলাকায় ডলু নদীর ভাঙনে প্রায় ১০০ মিটার সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। ওই ভাঙা অংশ দিয়ে এখনও নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। ফলে, এসব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। নলুয়া-চৌধুরীহাট সড়কের একটি অংশও নদীগর্ভে চলে গেছে। অন্যদিকে সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় কয়েকটি বসতঘর, একটি মসজিদ ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছদাহা-দস্তিরদারহাট সড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশও বন্যার তোড়ে বিলীন হয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি খাত। উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্যমতে, ৬০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৯৫ হেক্টর আউশ ধান, ৭৪০ হেক্টর শাকসবজি, ৮ হেক্টর পান, ১৬ হেক্টর পেঁপে বাগান এবং ৮০ হেক্টর অন্যান্য ফসলসহ মোট ১ হাজার ৮৯৯ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ২০ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া বিল এলাকার সবজি চাষি সিরাজ মিয়া জানান, দেড়শ শতক জমিতে করলা, লাউ, শসা, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়শ ও বেগুনের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে কোনো ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এখন নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে না পারলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৮৯৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সড়ক অবকাঠামো খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) জানিয়েছে, বন্যায় ২৬টি সড়কের প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৪টি কালভার্ট ও ১টি স্লুইস গেট ভেঙে গেছে। এসব অবকাঠামোর প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা।

মৎস্য খাতও বন্যার বড় ধাক্কা সামলাচ্ছে। উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী ৫৭৫ হেক্টর আয়তনের তিন হাজার ৫৫০টি পুকুর ও দীঘি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ৮০৬ টন পিন ফিস, প্রায় ১০ লাখ মাছের পোনা এবং বিপুল পরিমাণ চাষের মাছ ভেসে গেছে। এতে অবকাঠামো, মাছ ও পোনাসহ প্রায় ৩৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানবীর আহসান বলেন, এটি প্রাথমিক হিসাব। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পুনরায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে, ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার জন্য সুপারিশ করা হবে।

বাঁশখালী সংবাদদাতা জানান, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় পানিবন্দি এলাকায় কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন ভুক্তভোগীরা। তবে লাখো বন্যার্তদের ত্রাণের সংকট কাটেনি। এখনও হাজারো পরিবারে চুলা জ্বালানোর মতো অবস্থা নেই। গ্রামের চিরচেনা সড়ক ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়ি এমনভাবে ভেঙেছে তা ফের বসবাস উপযোগী করা কঠিন। মাটির ঘরগুলো বন্যার শুরুতেই ভেঙে গেছে। পাকা ঘরগুলো আছে নড়বড়ে অবস্থায়। গেল কয়েক দিনে সড়ক অবকাঠামার ভয়াবহ ক্ষতি চোখে পড়ছে। 

বন্যায় বাঁশখালী উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। প্রধান সড়কের কয়েকটি স্থানে ভাঙন ও ফাটলের কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পানি নামলেও উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ ও অভ্যন্তরীণ সড়ক এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।  

কক্সবাজার

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। রোববার রাত থেকে বৃষ্টি তেমন হয়নি। মঙ্গলবারও বৃষ্টির দাপট ছিল না। সব মিলে গেল কয়েক দিনে প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নেমেছে অনেক।
জেলা প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ক্ষতির কিছু চিত্র তৈরি করেছে। তবে ক্ষতির পুরো চিত্র পেতে আরও সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যে ক্ষতির চিত্র পাওয়া গেছে তা ভয়াবহ। জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি এবং পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে চারটি প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। আড়াই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

চকরিয়া প্রতিনিধি জানান, বন্যায় চকরিয়ার পেকুয়া উপজেলায় স্মরণকালের মধ্যে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে বন্যার্তরা। গত রোববার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়ায় স্বস্তি ফিরলেও বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন স্বাভাবিক জীবনে কবে ফিরবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। পানি নামছে অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকা থেকে। সেইসঙ্গে ভেসে উঠে ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবের মুখে পড়া সড়ক, বিধ্বস্ত ঘরবাড়িসহ গ্রামীণ অবকাঠামো। 


স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) চকরিয়া কার্যালয় জানায়, বন্যায় চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে এলজিইডি নিয়ন্ত্রণাধীন প্রায় ১১০টি সড়কের প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য একটি কালভার্ট ব্যাপকভাবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে। এতে অন্তত ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার। কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অবকাঠামো, পাউবোর বেড়িবাঁধসহ অন্যান্য যোগাযোগ খাতে কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

বান্দরবান

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, আট দিনের বর্ষণ, ঢল, ভূমিধস ও বন্যায় পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে সাতজন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ৭০ শতাংশ জলাবদ্ধতায় ২৪৭২ হেক্টর আবাদি জমির ফসল ও ১৫১ কিমি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছেন প্রায় ১২ হাজার ৫০০ পরিবার। এখনও অনেক এলাকায় লোকজন পানিবন্দি। তবে গত কয়েক দিনে পানি কমতে শুরু করেছে। এতে লোকজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে অন্য রকম যুদ্ধে। 

মঙ্গলবার বান্দরবান জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দেওয়া হয়। এ সময় নানা তথ্য তুলে ধরেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট ৫১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একপর্যায়ে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার সর্বোচ্চ আড়াই মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার ৫ দশমিক ৪৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৩ দশমিক ৭১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ৪৭টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১১টি বড় ধরনের। পাহাড়ধস ও গাছ পড়ে ২১টি স্থানে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে লামা উপজেলায়। সেখানে দুটি পৃথক পাহাড় ধসে পাঁচজন নিহত হন। এ ছাড়া বান্দরবান সদর ও নাইক্ষ্যংছড়িতে পানিতে ডুবে নিহত হয় আরও দুজন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে।

এদিকে অতিবৃষ্টিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় ৬১ কিলোমিটার এবং এলজিইডি ও স্থানীয় সরকারের আওতায় আরও ৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারটি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর মধ্যে একটি সচল করা হয়েছে। বাকি তিনটির সংস্কারকাজ চলছে।

কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার ৩২৩ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

মৌলভীবাজার 

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৮৬ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া ২৪৮ হেক্টর আউশ ধান এবং ৬৪ দশমিক ০৫ হেক্টর সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আসন্ন আমন মৌসুমের আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। রাজনগরের সৈয়দনগর এলাকার কৃষক মাসুদ মিয়া বলেন, ‘বন্যার পানিতে আমার ২০ বিঘা জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে রোপা আমনের চাষ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

বর্গাচাষি আজাদ মিয়া ও ইমানি মিয়া জানান, অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করে তাদের সংসার চলে। বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবার জমি আবাদ নিয়েই অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বীজতলা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সরকার থেকে অনুদান এলে তা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন আমাদের কাছে বিআর ২২ জাতের বীজ পর্যাপ্ত রয়েছে। 

কুড়িগ্রামে বন্যার শঙ্কা 

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। নদ-নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সবজি ও পাটক্ষেত ডুবে যা‌চ্ছে। পাশাপাশি দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে জেলার তিস্তা-দুধকুমারে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে উজানের পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার, ধরলা নদীর পানি তালুকশিমুলবাড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১ দশমিক ০৯ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতলে বাড়ছে। এসব নদ-নদীর পানি সমতলে বেড়ে তিস্তা নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 



  বিষয়:   স্বাভাবিক  জীবন  যুদ্ধ  বন্যা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: