যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় নৌ-অবরোধ ও বিমান হামলার জবাবে এবার বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের আরও কয়েকটি প্রধান নৌপথ বা ‘সি-লেন’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার নজিরবিহীন হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরানের হুশিয়ারি— মধ্যপ্রাচ্যের তেল যদি ইরান রপ্তানি করতে না পারে, তবে এই অঞ্চলের অন্য কোনো দেশকেও তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাতে প্রকাশিত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা হয় সবাই ভোগ করবে, অন্যথায় সবার জন্য তা বন্ধ থাকবে। আমেরিকার ‘অপকর্ম’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ রাখার পাশাপাশি এবার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের তেল সরবরাহের অন্যান্য করিডোরও গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিল তেহরান।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কৌশলগত ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালী বন্ধ করতে তাদের ইয়েমেনি মিত্র হুথি বাহিনীকে ব্যবহার করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর এটি হলে বিশ্বজুড়ে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল ভিত্তিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে।
ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর এক শীর্ষ নেতা ইতিমধ্যে হুশিয়ারি দিয়েছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে তাদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালী সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে প্রস্তুত। হুথিদের দাবি, এই রুট বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি এক লাফে ২০০ ডলারে গিয়ে ঠেকবে। উল্লেখ্য, গত সোমবারই সৌদি আরবের এক বিমান হামলার জবাবে হুথিরা রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যার ফলে চার বছরের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে।
আইআরজিসি বুধবার দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে গত সাত ঘণ্টা ধরে চালানো মার্কিন বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ও লজিস্টিকস সেন্টারে সফল হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহতে অবস্থিত একটি মার্কিন রসদ গুদাম জ্বালিয়ে দেওয়ার এবং জর্ডানের আজরাক বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে মার্কিন যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সেখানে একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনার খবর নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে পুনরুল্লেখ করে বলেন, ইরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে আগামী সপ্তাহে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যোগাযোগের প্রধান সেতুগুলো উড়িয়ে দেওয়া হবে। জ্বালানি খাতের লক্ষ্যবস্তুগুলো আমি শেষের জন্য তুলে রেখেছি, তবে শেষ পর্যন্ত আমরা সেখানে আঘাত করবই।
এই ভূ-রাজনৈতিক মহাটেনশনের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম রকেটের গতিতে বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট— উভয় তেলের দামই গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে।
সময়ের আলো/কহু