রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিকারী দেশগুলোর ওপর মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবিত ৫০০ শতাংশ পাইকারি শুল্ক আরোপের কঠোর অবস্থান থেকে শেষ পর্যন্ত সুর নরম করল যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ দরকষাকষির পর ওয়াশিংটনে উন্মোচন হওয়া রাশিয়ার ওপর সংশোধিত দ্বিপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞা বিলে এই শুল্কের মাত্রা সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নামিয়ে আনা হয়েছে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই পিছু হটাকে ভারত ও চীনের মতো শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য এক বিশাল স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ঐতিহাসিক বিলটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মতি নিয়ে নতুন রূপে সামনে আনা হয়েছে।
প্রকাশিত সংশোধিত বিলের খসড়া অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশ— চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজানের ওপর পূর্বের ৫০০ শতাংশ ঢালাও শুল্কের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে হোয়াইট হাউজকে।
পাশাপাশি, যেসব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং এই জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদেরকে এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখার বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম নিশ্চিত শুল্কের কোপ থেকে রেহাই পেতে যাচ্ছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি মনে করেন এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে, তবে তিনি তা সাময়িকভাবে মওকুফ (ওয়েভার) করতে পারবেন।
তবে রাশিয়ার তেল পরিবহন করা ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া ট্যাঙ্কার বহর, রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং দেশটির বড় বড় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রকল্প যেমন— ইয়ামাল এলএনজি এবং আর্কটিক এলএনজির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।
মূলত ইউক্রেনে রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা সামরিক অভিযান বন্ধে মস্কোর ওপর চূড়ান্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করাই ছিল এই বিলের মূল লক্ষ্য। তবে ভারত ও চীনের মতো বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক চিরতরে ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতো। সিনেটের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর একটি সর্বসম্মত চুক্তিতে পৌঁছাতেই বিলের কিছু কঠোর ধারা নরম করা হয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই বিলটি প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে করা হচ্ছে। তিনি এটি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি চেয়েছিলেন। বিলটি পাস হওয়ার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে ট্রাম্প এই বিলে ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সময়ের আলো/কহু