ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের পারদ আরও বাড়িয়ে দেশটির সমস্ত বন্দরে পুনরায় নৌ-অবরোধ (নাভাল ব্লকেড) জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে তেহরান যদি অবিলম্বে আলোচনায় না বসে, তবে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে বলে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন তিনি।
গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে তুমুল লড়াই শুরু হওয়ার পর ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে যায়। এরপরই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই কঠোর পদক্ষেপ এল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই তারা এই নতুন দফায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘জ্বালানি খাতের লক্ষ্যবস্তুগুলো আমি শেষের জন্য তুলে রেখেছি, তবে শেষ পর্যন্ত আমরা সেখানে আঘাত করবই। তিনি আরও যোগ করেন, তারা যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তবে আগামী সপ্তাহে বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুগুলোতে হামলা চালানো হবে।’ যদিও ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কোনো স্থাপনায় যুদ্ধকালীন হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি করেছে ইরান। বুধবার (১৫ জুলাই) ভোরে দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, তারা জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন অস্ত্র ও রসদ গুদামে হামলা চালানোর দাবি করেছে। কুয়েত সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
দক্ষিণ ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং সিরিক অঞ্চলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা নিশ্চিত করেছে। এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে সামরিক পদক্ষেপ আর অর্থনৈতিক অবরোধ জোরদার করে আমাদের আলোচনার টেবিলে ফেরানো যাবে, তবে তারা মস্ত বড় ভুল করছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। নতুন করে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম গত সাত দিনে ১৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলারে ঠেকেছে, যা গত জুনের পর সর্বোচ্চ। নতুন এই উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সময়ের আলো/কহু