ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে ঢুকে শুনানি চলাকালীন খোদ প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে নজিরবিহীন গালিগালাজ, চিৎকার এবং ফাইল ছুড়ে মারার ঘটনায় দুই ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, সরকারি কর্মচারীর কাজে হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— প্রবাল প্রতাপ সিং (২৪) এবং চন্দ্র ভানু (২৩)। তারা দুজনেই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এবং লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থী।
দিল্লি পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ১৩ নম্বর আদালত কক্ষে একটি মামলার শুনানির সময় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন প্রধান আবেদনকারী প্রবাল প্রতাপ। শুনানি চলাকালীন হঠাৎ করেই তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং বেঞ্চের বিচারপতিদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিতে বলেন। বিচারপতিরা এর কারণ জানতে চাইলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নিজের সাথে থাকা ১৮৫ পৃষ্ঠার নথিপত্র বাতাসে ছুড়ে মারেন, যা পুরো এজলাসে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তিনি ভারতের প্রধান বিচারপতিকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা কর্মীরা এগিয়ে এলে প্রবাল তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন এবং হাতাহাতিতে জড়ান। পরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী এসে তাকে ও তার সহযোগী চন্দ্র ভানুকে এজলাস থেকে টেনে বের করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় তিলক মার্গ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনাটি সরাসরি ফৌজদারি আদালত অবমাননার শামিল হলেও, সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অভিযুক্ত তরুণদের বিরুদ্ধে কোনো আদালত অবমাননার আইনি প্রক্রিয়া শুরু না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সোমবার এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, ঘটনাটি উপেক্ষা করাই শ্রেয়। তরুণরা কখনো কখনো আবেগের বশে এমন কাজ করে বসে। তাদের প্রতি আমাদের কেবল সহানুভূতিই রয়েছে। সম্ভবত চরম হতাশা থেকে সে এটি করেছে। তবে তিনি যোগ করেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ও ভাবমূর্তি রক্ষা করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের আদেশের পর দুই ছাত্রকে মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসকদের দ্বারা পরীক্ষা করানো হলে তারা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে প্রমাণিত হন। গ্রেফতারের পর তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে আপত্তিকর ভাষা সংবলিত বেশ কিছু লিফলেট ও প্যামফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বা অন্য কারও উসকানি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আদালত তাদের দুদিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
সময়ের আলো/কহু