৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকে পড়ে বন্যার পানি

এসএম আলমগীর

জাতীয়

ভাটির দেশ হওয়ায় প্রতি বছরই বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় বাংলাদেশে। এর সঙ্গে বছরের বিভিন্ন সময় ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই

2026-07-16T05:30:18+00:00
2026-07-16T05:43:41+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬,
১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকে পড়ে বন্যার পানি
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩০ এএম  আপডেট: ১৬.০৭.২০২৬ ৫:৪৩ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ভাটির দেশ হওয়ায় প্রতি বছরই বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় বাংলাদেশে। এর সঙ্গে বছরের বিভিন্ন সময় ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। এতে জানমালের যেমন অপূরণীয় ক্ষতি হয়, তেমনই কৃষিসহ অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে, কিন্তু এর প্রকৃত সুফল মিলছে না। 

যেমন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বছরে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। তবু প্রতি বছর দেশের মানুষকে যেমন বন্যা-প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়, তেমনই এই সংকটকালে মানুষ ঠিকমতো ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তাও পায় না। 

অন্যদিকে চট্টগ্রামের উন্নয়নে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ দেওয়া যাচ্ছে না চট্টগ্রামবাসীকে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বর্তমানে চট্টগ্রামে চারটি বড় প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই চার প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে টাকা ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে। অথচ বৃষ্টির পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে যাচ্ছে পুরো চট্টগ্রাম। 

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, সারা দেশে বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রতি বছরই বরাদ্দ বাড়ে কিন্তু দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ মিলছে না। 

এ মন্তব্য করে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, আমরা যদি প্রতি ফিসক্যাল ইয়ারের জাতীয় বাজেটের দিকে নজর দিয়ে দেখি, তা হলে দেখতে পাব দেশের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখে। কোনো কোনো বছর বরাদ্দের হার আগের বছরের চেয়ে বেশিও রাখা হয়। দেখা গেছে, প্রতি বছর গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয় বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করা হয়। তবে প্রতি বছর অর্থ ব্যয় ঠিকই হয়, কিন্তু কাজের কাজ কতটা হয়- সেটিই মূল প্রশ্ন। আসলে প্রতি বছর বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যেসব প্রকল্প নেওয়া হয় তা সঠিক পরিকল্পনামাফিক গ্রহণ করা হয় না। আবার প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং অনিয়মও হয় অনেক। যে কারণে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ রাখার পরও প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো শেষ করা যায় না বা মানসম্পন্ন হয় না। এ ছাড়া দুর্যোগের কবলে পড়া মানুষকে যেসব ত্রাণ দেওয়া হয় সেখানেও নানা অনিয়মের খবর মেলে। মূলত এসব কারণেই অনেক অর্থ বরাদ্দ থাকার পরও সুফল পান না দেশের মানুষ। 

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরাসরি বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, সেচ, নিষ্কাশন ও খাল খনন করা হবে। এর মধ্যে ৩০৯ কিলোমিটার বাঁধ ও বন্যা দেয়াল নির্মাণ-মেরামতের টার্গেট আছে। 

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলতি অর্থবছরে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫১ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। এর ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ বা ৩৮ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে অভিযোজন খাতে। এই অভিযোজনের মধ্যে আছে- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বাঁধ নির্মাণ, উপকূলীয় সুরক্ষা ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা।

এ ছাড়া চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এই অর্থ দুর্যোগ মোকাবিলার পূর্ব প্রস্তুতি, ত্রাণ ও গ্রামীণ অবকাঠামোর জন্য ব্যয় করার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

অর্থাৎ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তিন মন্ত্রণালয়ে বন্যা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জলবায়ু অভিযোজন খাতে ৩৮ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই তিন মন্ত্রণালয়ে বন্যা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ‘বন্যা প্রতিরোধ’ ধরলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকাই মূল বরাদ্দ। তবে বাঁধ, নদী খনন ও উপকূলীয় বাঁধ- এগুলো সব জলবায়ু অভিযোজনের অংশ হিসেবেও খরচ হয়। 

বিগত কয়েক বছরের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- বিগত চার বছরে এই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমছে। যেমন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা ছিল ১৪ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। চার বছরের ব্যবধানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমেছে ৪ হাজার ৭১ কোটি টাকা। 

অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জলবায়ু অভিযোজনসহ মোট জলবায়ু বাজেট ছিল ৪১ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট জলবায়ু বাজেট ছিল ৪২ হাজার ২০৬  কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে ২০২৫-২৬ জলবায়ু বাজেট ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪১ হাজার ২০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। জলবায়ু বাজেটের এই ৪১ হাজার ২০৮ কোটি টাকা বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যয় করা হয়। যেমন স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মোট জলবায়ু ব্যয়ের ৫৩ শতাংশ ব্যয় করা হয়। এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হয় ৪২ দশমিক ২৬ শতাংশ। বাকিগুলো অবকাঠামো, উপকূলীয় সুরক্ষা, বাঁধ, নদী খনন, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা সহনশীল কৃষি খাতে ব্যয় করা হয়। 

এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল টাকা ১০ হাজার ৩৬২ কোটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ১১১ কোটি টাকা। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। 

ত্রাণ ও পুনর্বাসনে বরাদ্দ কি পর্যাপ্ত : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রতি ২ বছর পরপর বন্যা হলে তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও পুনর্বাসনে দরকার পড়ে ৪৭০ কোটি ডলার বা ৫০ হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বিষয়ে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের লক্ষ্য পূরণে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়ে। অথচ বর্তমান বরাদ্দ তার চেয়ে অনেক কম। 

নদী রক্ষায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাজ কতটা হয়েছে : গত ৩ বছরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২ হাজার ৩৬৯ কিলোমিটার বাঁধ নতুন করে গড়া বা মেরামত করা হয়েছে। ২১০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ২৪৭ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং ১ হাজার ১৪৮ কিলোমিটার নদী খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছে। 

বন্যায় ও দুর্যোগে গড় বার্ষিক ক্ষতি : ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে বন্যায় ও দুর্যোগে গড় বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। চরম বন্যা, খরা, ঝড় এবং তাপপ্রবাহ মিলিয়ে বাংলাদেশে গড়ে প্রতি বছর এই ৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। এর মধ্যে বন্যার অংশই সবচেয়ে বড়।

এ ছাড়া জলবায়ুজনিত দুর্যোগে বছরে জিডিপির ক্ষতি ১ থেকে ২ শতাংশ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরায় জিডিপির ক্ষতি বছরে ১ শতাংশ ক্ষতি হয়। আর ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত- এই দশ বছরে গড়ে প্রতি বছর ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, প্রতি বছর সাধারণ বন্যা এবং কোনো কোনো বছর বড় বন্যায় দেশের ক্ষয়-ক্ষতিও কম না। সাধারণ বন্যায় বছরে ক্ষতি হয় প্রায় ১৭ দশমিক ৫ কোটি ডলারের। আর চরম বা বড় বন্যায় বছরে ক্ষতি ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। যেমন ২০০৪-এর বড় বন্যায় সরাসরি ক্ষতি হয়েছিল ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের। ২০০৭ সালের বন্যায় ক্ষতি ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের। আর ২০২৪ সালে দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যায় ক্ষতি হয় ১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারের।


কোথায় ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি : গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ২০২৪-এর বন্যা সমীক্ষা তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর বন্যায় কৃষি ও বনের ক্ষতি হয় ৩৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য ৫ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। ওই বছর অবকাঠামো যেমন- রাস্তা, ব্রিজ, বাঁধের ক্ষতি হয় ৩২ দশমিক ২৭ শতাংশ। যার আর্থিক মূল্য ৪ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। আর বাসস্থানের ক্ষতি হয় ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যার আর্থিক ক্ষতি ২ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা। আর ২০২৪ সালের বন্যায় দেশের কৃষি খাতে শুধু ফসলই নষ্ট হয় ২৮ দশমিক ২ কোটি ডলারের। 

এ ছাড়া বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতি বছর দেশের মানুষের ওপর সরাসরি ব্যাপক প্রভাব পড়ে। যেমন প্রতি বছর ৬৩ লাখ মানুষ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গ্রামীণ পরিবার শুধু জলবায়ু ক্ষতি মেরামত বা প্রতিরোধে খরচ করে বছরে প্রায় ১৫৮ বিলিয়ন টাকা বা ২ বিলিয়ন ডলার। আর বন্যায় ছোট কৃষক ও নারীদের আয় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। 

আরেক সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশ প্রতি বছর শুধু বন্যা প্রতিরোধে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি খরচ করে। অথচ বন্যায় সরাসরি ক্ষতি হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটির টাকার।

চট্টগ্রামের উন্নয়নে খরচ হয় কেমন : চট্টগ্রামের উন্নয়নে এখন ৪টি বড় প্রজেক্ট চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। এই চার প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি। এর মধ্যে টাকা ১০ হাজার ৪০৮ কোটি ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জলাবদ্ধতা খাতে বরাদ্দ দিয়েছে ৮৮ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৩৩ কোটি, খরচ হয়েছিল ২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে চট্টগাম সিটি করপোরেশন ১৯টি খাল থেকে ৪১ লাখ ঘনফুট কাদা-আবর্জনা অপসারণ করেছে ১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে। এ ছাড়া ড্রেন ও স্যুয়ারেজ পরিষ্কার করা হয়েছে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে। আর আগ্রাবাদ বক্স কালভার্ট পরিষ্কার করা হয়েচে ২ কোটি ২ লাখ টাকায়।

বর্তমানে চট্টগ্রামে দুটি বড় মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ৩৬টি খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলছে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে। যদিও এ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে এখন ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৪ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর পাড়ে রাস্তা ও রেগুলেটর তৈরি ও মেরামতের কাজ চলছে ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। 

তাই দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন ও চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও সমন্বয়ের অভাবে কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না এবং প্রকৃত সুফল পাচ্ছে না চট্টগ্রামবাসী।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   বন্যার পানি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: