ধীরে ক্ষয় হচ্ছে ৩৬ হাজার গাড়ি

আদিল সরকার

জাতীয়

রাজধানীজুড়ে থানায় থানায় পড়ে আছে শতশত গাড়ি। যার অধিকাংশই পুরোনো। সেসবের কোনো গাড়ির বডি ফুঁড়ে গজিয়েছে গাছ, ছেয়েছে ঝোপঝাড়ও। কোনোটি

2026-07-16T05:41:29+00:00
2026-07-16T05:41:29+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬,
১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
ধীরে ক্ষয় হচ্ছে ৩৬ হাজার গাড়ি
আদিল সরকার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪১ এএম 
রাজধানীর শ্যামপুরে পোস্তগোলা সেতুর পাশে ট্রাফিক পুলিশের ডাম্পিং স্টেশনে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। ইনসেটে জব্দকৃত মোটরসাইকেলের স্তূপ ও শাহবাগ ডাম্পিং স্টেশন থেকে একটি লরির চাকা খুলে নিয়ে যাচ্ছে কয়েকজন। বুধবার তোলা। ছবি : আবদুল হালিম
রাজধানীজুড়ে থানায় থানায় পড়ে আছে শতশত গাড়ি। যার অধিকাংশই পুরোনো। সেসবের কোনো গাড়ির বডি ফুঁড়ে গজিয়েছে গাছ, ছেয়েছে ঝোপঝাড়ও। কোনোটি দেখে বোঝা যায়- এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পড়ে আছে একই জায়গায়। আবার কোনোটি যেন শুধুই ধ্বংসাবশেষ। সেসব গাড়ির মধ্যে অধিকাংশেরই নেই যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, চুরি হয়ে যাওয়ায় শুধু পড়ে আছে অবকাঠামোটি। 

অন্যদিকে কিছু গাড়ি থানার ভেতরে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় সামনের রাস্তার মধ্যেই সারি ধরে ফেলে রাখা হয়েছে, যা সরু করে দিয়েছে প্রশস্ত রাস্তাকে। রাজধানীর প্রায় প্রতি থানাতেই এমন চিত্র রয়েছে। যেখানে দুর্ঘটনাজনিত, লাইসেন্সবিহীন, উদ্ধার করা চুরি বা ছিনতাইয়ের গাড়ি ও মামলায় জড়িত কারণে ডাম্পিং করা হয়েছিল গাড়িগুলো। পরে মামলার দীর্ঘসূত্রতায় আর থানার গণ্ডি পার হয়নি গাড়িগুলো। সারা দেশে প্রায় ৩৬ হাজার গাড়ি এই ডাম্পিং করার অবস্থায় আছে বলে জানা গেছে। অব্যবস্থাপনায় খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর পড়ে থেকে ধীরে ধীরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে সেসব গাড়ি। দিনশেষে শত শত কোটি টাকার আয় হারাচ্ছে খোদ সরকারই। এত বড় অপচয়েও যেন চোখ নেই সংশ্লিষ্ট কারোর।

রাজধানীর শাহবাগ থানায় সরেজমিন দেখা যায়, নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করার দফতরগুলো ছাড়া থানার বাকি প্রায় সবটা জায়গাজুড়েই পড়ে আছে নতুন-পুরোনো গাড়ি। এ ছাড়া থানার সামনের রাস্তায়ও পড়ে রয়েছে বেশ কিছু গাড়ি। যেখানে বাস থেকে শুরু করে ট্রাক, রিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন রয়েছে। যা মূলত ডাম্পিং করে রাখা হয়েছে নানা আইনি কারণে। যার অধিকাংশই বেশ পুরোনো। এ ছাড়া কিছু গাড়িতে শুধু অবকাঠামো ছাড়া আর কিছুই দেখা যায়নি। যন্ত্রপাতির প্রায় সবই চুরি হয়ে গেছে। সেসব গাড়ি দেখে মনে হয়, যেন কোনো এক যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষের স্থিরচিত্র।

তবে থানা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেসবের বিষয়ে খুব বেশি কিছু করার নেই তাদের। মামলার কারণে আদালতের নির্দেশে ফেলে রাখা হয়েছে সেসব গাড়ি। তাই আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সেসব গাড়ি না মালিকের কাছে হস্তান্তর করা যাচ্ছে, না থাকছে বিক্রি করে দেওয়ার সুযোগ। তবে ডাম্পিং করা সেসব গাড়ি কেন্দ্রীয়ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করার সুযোগ থাকলে থানার পরিবেশ ভালো থাকত সেই সঙ্গে গাড়িগুলোর ক্ষয়ক্ষতিও কম হতো বলে মত তাদের।

ডাম্পিং গাড়ি দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় রাষ্ট্রের জন্য লোকসান হচ্ছে জানিয়ে শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, এসব গাড়ি অনেক বছর ধরে পড়ে থাকায় নষ্ট হয়ে যায়। যদি সেগুলো আগেই নিয়ম অনুযায়ী বিক্রি করে দেওয়া যেতো তা হলে সরকারের কিছু টাকা আয় হতো। শুধু শাহবাগ থানাই নয়, হাজারীবাগ ও মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর অধিকাংশ থানাতেই ডাম্পিং করা গাড়ির এই চিত্র দেখা গেছে।

এ ছাড়া দেশজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৩৬ হাজার গাড়ি ডাম্পিং অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৮ জুলাই এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। সেই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বর্তমানে দেশের থানা ও আদালতের মালখানায় ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৭৭টি জব্দকৃত আলামত ও সম্পত্তি সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৫৮৮টি যানবাহন ও জলযান এবং ১৪ লাখের মতো অন্যান্য আলামত ও সম্পত্তি রয়েছে।

পুলিশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বড় আকারের জব্দকৃত সম্পত্তি রাখার জন্য সরকারিভাবে কোনো ডাম্পিং ইয়ার্ড নেই। তবে মাত্র ৬টি থানায় শেডযুক্ত ডাম্পিং সুবিধা রয়েছে। আর যেসব থানার আশপাশে সরকারি বা কোনো সংস্থার উন্মুক্ত জায়গা নেই, সেসব থানা ভবনের সামনে-পেছনে, গেটে অথবা চলাচলের রাস্তায় কিংবা ফাঁকা জায়গায় ও খোলা আকাশের নিচে নিরুপায় হয়ে হাজার হাজার জব্দকৃত গাড়ি, মোটরসাইকেল, ট্রাক, বাস ও নৌযানসহ বড় আকারের সম্পত্তি রাখা হয়। ফলে দীর্ঘদিন রোদ-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে এসব সম্পত্তির বড় অংশই ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যাচ্ছে।


এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক ডিভিশনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, মামলা হলে তখন গাড়িটার পুরো এখতিয়ার আদালতের। আমরা শুধু কাস্টডিয়াল। তবে মামলা শেষে আদালত ডিরেকশন দিয়ে দেন যে পরবর্তী সময়ে কী করা হবে গাড়িগুলোর, যা অনেক সময় লেগে যায়। আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে খোলামেলা জায়গায় রাখায় গাড়িগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাফিক ডিভিশনের কোনো দায় রয়েছে কি না সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়টাতে অবশ্যই নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করি। অধিকাংশ থানাতেই ডাম্পিং জোন নেই, দেখাশোনার জন্যও লোকবল নেই। মানুষের... মানে অন্যের জায়গায় রাখতে হয় এবং রাস্তায়ও রাখতে হয়। এভাবে থানাগুলোতে এসব গাড়ি পড়ে থাকায় কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে, গাড়ি যারই হোক- এভাবে আলটিমেটলি দেশের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। 

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ডাম্পিং জোনের জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এখন সহজে জমিও পাওয়া যায় না। সবকিছুই দেরিতে হয়।


  বিষয়:   গাড়ি  ডাম্পিং  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: