ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের একটি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতালের খুব কাছে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার জেরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ২১১ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) হাসপাতালের পরিচালক রেজা বাজারের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে বাঘায়ি স্পেশালাইজড হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। যদিও হামলায় হাসপাতালের ভেতরে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সব রোগীকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডা. মাজিদ বো’আজার আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ২১১ জন রোগীকে বাধ্য হয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ক্যানসার রোগীসহ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাধীন অনেক গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি ছিলেন।
হামলার বিষয়ে হাসপাতালের এক কর্মী আল জাজিরাকে জানান, হাসপাতালের আশপাশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হচ্ছিল। তিনি বলেন, এখানে ক্যানসার রোগীসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাধীন রোগীরা ভর্তি ছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসপাতালের চারপাশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছে। অনেক রোগী অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটরের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, কেউ শিশুদের কোলে নিয়ে, কেউ হাতে স্যালাইন নিয়ে, আবার কেউ হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে আসেন। সবাইকে দ্রুত ভবনের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক্সে এক পোস্টে বলেন, এই হামলা ছিল বর্বরোচিত এবং এটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর ইসরাইলের হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, এই বর্বরোচিত হামলার কারণে হাসপাতালে ভর্তি শিশু ও অন্যান্য রোগীরা চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মুখে পড়েছেন। তিনি জানান, কেমোথেরাপি গ্রহণরত ২১১ জন রোগীকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল খালি করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। একই সঙ্গে হামলার লক্ষ্যবস্তু হাসপাতাল ছিল কি না, সে বিষয়েও ওয়াশিংটন কোনো মন্তব্য করেনি।
আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলার সময় হরমুজ প্রণালীর কাছের কেশম দ্বীপের পাশাপাশি বন্দর আব্বাস এবং চাবাহার এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা পাল্টা হামলায় কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে ‘অঞ্চলজুড়ে সব অবকাঠামো ইস্পাতের আঘাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’
সময়ের আলো/ইউএমএইচ