লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার প্রাণকেন্দ্রসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। হঠাৎ এই পানি বৃদ্ধিতে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি পুরো কমলনগরজুড়ে বিরাজ করছে তীব্র আতঙ্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে মেঘনার জোয়ারের পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এতে উপজেলার মতিরহাট, লরেন্স, ফলকন, পাটারীরহাট ও চর কালকিনিসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে সুনির্দিষ্ট কিছু অংশে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় তীব্র বেগে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। ফলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, ফসলি জমি এবং অসংখ্য মাছের ঘের ভেসে গেছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
ভোক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা নুরনবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছরই জোয়ারের পানিতে আমাদের ডুবতে হয়। এবার জোয়ারের টান অনেক বেশি। ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে, পোলাপাইন নিয়ে কই যামু বুঝতেছি না। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে ভিটেমাটি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের পানি সরাসরি মেঘনা উপকূল ঘেঁষে কমলনগরের প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হানায় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভাটার সময় পানি কিছুটা কমলেও পরবর্তী জোয়ারে আবারো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে গবাদি পশু, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী ও টেকসই বাঁধের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় জোয়ারের এই ভয়ংকর রূপ দেখে পুরো কমলনগরবাসী আতঙ্কিত। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অমাবস্যা ও আবহাওয়ার বৈরী আচরণের কারণে জোয়ারের বেগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও জোয়ারের তীব্রতা না কমলে এই অঞ্চলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ মিয়া জানান, মেঘনার তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, আমাদের নদী বাঁধের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে এবং বাকি কাজও চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে আগামীতে লোকালয়ে আর পানি ঢোকার সম্ভাবনা থাকবে না।
উপকূলের হাজারো মানুষকে এই স্থায়ী দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে চলমান বাঁধের কাজ দ্রুত ও টেকসইভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা।
সময়ের আলো/জেডআই