ম্যানচেস্টার সিটির ড্রেসিংরুমে তখন তুমুল আড্ডা। সতীর্থরা গোল হয়ে ঘিরে ধরেছেন তাঁদের দলের মাঝমাঠের জেনারেলকে। আলোচনার বিষয়বস্তু ফুটবল নয়, বরং তাঁর পোশাক-আশাকের সাধারণ পছন্দ এবং কথা বলার অদ্ভুত ধরণ। ফুটবলারদের ভাষায় যাকে বলে ‘ড্রিপ’, তা রদ্রির মধ্যে একেবারেই অনুপস্থিত। সতীর্থদের এমন খোঁচায় স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিগো হার্নান্দেজ ক্যাসকান্তে (রদ্রি) অবশ্য রাগ করেন না। বরং বেশ রসিকতার ছলে আমেরিকান টানে জবাব দেন— ‘আই ডোন্ট স্পিক ইংলিশ, আই স্পিক আমেরিকান!’
‘প্লেয়ার্স ট্রিবিউন’-এ লেখা এক দীর্ঘ ও আবেগঘন কলামে নিজের জীবনের এক টানটান ও অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প শুনিয়েছেন এই ম্যানচেস্টার সিটি ও স্প্যানিশ তারকা। তিনি যে ম্যানচেস্টার বা লন্ডনে এসে ইংরেজি শেখেননি, বরং ১৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের এক গহীন জঙ্গলের সামার ক্যাম্পে গিয়ে তাঁর ইংরেজি শেখা—সেই গল্প আজ হয়তো অনেকেরই অজানা।
শিক্ষা রদ্রির পরিবারে সবসময়ই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেত। বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে অন্তত এক বছরের জন্য আমেরিকার কোনো হাইস্কুলে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে যাক। কিন্তু ফুটবলের তীব্র স্বপ্নের কাছে সেই দীর্ঘ সময় দেওয়া অসম্ভব ছিল। তাই বিকল্প হিসেবে ১৪ বছর বয়সে রদ্রিকে পাঠানো হয় কানেকটিকাটের এক সামার ক্যাম্পে। রদ্রি বলেন, ‘মাদ্রিদের একটা ছেলের কাছে ‘কানেকটিকাট’ নামটাই কেমন অদ্ভুত শোনাত। সেখানে গিয়ে মনে হলো আমি কোনো হলিউড সিনেমার ভেতরে ঢুকে পড়েছি। চারদিকে বড় বড় গাছ, লেক, কাঠের তৈরি ডিঙি নৌকা, আর তাঁবুতে শুয়ে থাকা।’
সেখানে কোনো ফোন ছিল না, ছিল না কোনো ওয়াই-ফাই। সম্পূর্ণ নতুন একটা দেশে একা এক কিশোর কেবলই মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই সময়েই শুরু হলো ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ। ফুটবল-পাগল রদ্রির জন্য ইন্টারনেটের বাইরে থাকাটা ছিল এক প্রকার শাস্তি। ক্যাম্পের মূল কেবিনে একটা ছোট ১০ ইঞ্চির মিনি ল্যাপটপ কম্পিউটার ছিল। রদ্রি প্রতিদিন ক্যাম্প কাউন্সেলরদের অনুরোধ করতেন স্পেনের ম্যাচের ফলাফল একটু গুগল করে দেওয়ার জন্য। স্পেন যখন সুইজারল্যান্ডের কাছে প্রথম ম্যাচ হেরে গেল, রদ্রি ভেবেছিলেন কাউন্সেলররা তার সঙ্গে রসিকতা করছেন।
ধীরে ধীরে স্পেন ফাইনালে উঠল। ফাইনালের দিন রদ্রি কাউন্সেলরের কাছে অনুনয়-বিনয় করে সেই ১০ ইঞ্চির স্ক্রিনে খেলা দেখার অনুমতি চাইলেন। একরকম অবৈধ লাইভ স্ট্রিম খুঁজে খেলা দেখতে বসেছিলেন তিনি, আর তার চারপাশের আমেরিকানদের ফুটবল নিয়ে কোনো মাথাব্যথাই ছিল না। রদ্রি সেই মাহেন্দ্রক্ষণের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা যখন সেই ঐতিহাসিক গোলটি করলেন, আমি আক্ষরিক অর্থেই চিৎকার করতে করতে কেবিন থেকে বের হয়ে লেকের চারপাশে পাগলের মতো দৌড়াতে লাগলাম। চিৎকার করছিলাম— ভামোস! ভিভা এস্পানিয়া! আমেরিকানরা আমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিল যেন আমি কোনো পাগল। তারা বুঝতে পারছিল না, স্রেফ ‘সকার’ (ফুটবল) নিয়ে কেউ এভাবে কাঁদতে পারে!’
ফুটবলের প্রতি রদ্রির এই আসক্তি ছোটবেলা থেকেই ছিল এক ধরনের মাদকের মতো। ১০ বছর বয়সে কোনো ম্যাচ খারাপ খেললে তিনি সারাদিন মা-বাবার সঙ্গে কথা বলতেন না। মা হয়তো ভাবতেন, একটা খেলা নিয়ে ছেলের কীসের এত পাগলামি! তবে মা-বাবার সঙ্গে রদ্রির একটি অলিখিত চুক্তি ছিল— ফুটবল যদি খেলতেই হয়, তবে পড়াশোনাও সমানতালে চালিয়ে যেতে হবে।
১৭ বছর বয়সে রদ্রি যখন মাদ্রিদ ছেড়ে ভিয়ারিয়ালে যোগ দেন, তখন একই সঙ্গে তিনি নাম লেখান বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিষয় ছিল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং। ১৮ বছর বয়সে ক্লাব একাডেমি ছাড়ার পর তার মা বুদ্ধি দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রাবাসে (হোস্টেল) গিয়ে ওঠার। রদ্রিও তা-ই করলেন।
সেখানে রদ্রির জীবনটা ছিল আর দশটা সাধারণ শিক্ষার্থীর মতোই। সকালে ভিয়ারিয়ালের হয়ে কড়া ট্রেনিং, দুপুরে ক্লাস, আর রাতে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি। রদ্রি বলেন, উইকএন্ডে যখন শুক্রবার রাতে হলের সবাই ক্লাবে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিত, ছোট একটা রুমে ২০ জন মিলে গান ছেড়ে বিয়ার খেত, আমি তখন এক কোনায় স্পার্কলিং ওয়াটারের বোতল হাতে আড্ডা দিতাম। ক্লাবে যাওয়ার সময় হলে আমি বলতাম— আমার সকালে ট্রেনিং আছে, আমি ঘুমাতে যাচ্ছি। সবাই আমাকে ‘ল্যাম’ (বোরিং) বলে ক্ষ্যাপাত। তারা জানতই না আমি আসলে পেশাদার ফুটবল খেলি।’
তখন রদ্রি ভিয়ারিয়ালের মূল দলেও সুযোগ পাননি, ছিলেন দ্বিতীয় দলে। ট্যাক্সি চড়ার মতো টাকা ছিল না বলে সাইকেল চালিয়ে ট্রাম স্টেশনে যেতেন, ট্রামে সাইকেল উঠিয়ে পৌঁছাতেন ট্রেনিং গ্রাউন্ডে। পরে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পর বাবাকে ৩,০০০ ইউরো দিয়ে একটি পুরোনো গাড়ি খুঁজে দিতে বলেন। বাবা এক বৃদ্ধার কাছ থেকে ৪,০০০ ইউরো দিয়ে একটি পুরোনো ‘ওপেল করসা’ গাড়ি কিনে আনেন। রদ্রি হাসতে হাসতে বলেন, ‘বাবা বলেছিল গাড়িটায় নাকি কম্পিউটার আছে। গিয়ে দেখি ৮ সেন্টিমিটারের একটা টাচ স্ক্রিন, যা দিয়ে কেবল রেডিও চালানো যায়! তা-ই নিয়েই আমি ব্যালারের মতো প্রতিদিন ট্রেনিংয়ে যেতাম। সর্তীথরা দামি দামি গাড়ি নিয়ে আসলেও আমি পাত্তাই দিতাম না।’
পরের বছর যখন রদ্রি লা লিগার মূল দলে নিয়মিত খেলা শুরু করলেন, তখন হোস্টেলের বন্ধুদের চোখ চড়কগাছ। হলের ছেলেটি অ্যাকাউন্টিং ক্লাস শেষ করে রাতে বার্সেলোনার বিপক্ষে নম্বর সিক্স পজিশনে খেলছে— এটা বিশ্বাস করতেই তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। স্পেনে ‘কম্যুনিও’ নামক এক প্রকার ফ্যান্টাসি ফুটবল গেম খুব জনপ্রিয়। শনিবার রাতে ম্যাচ খেলে হোস্টেলে ফেরার পর বন্ধুরা রদ্রিকে চেপে ধরত— ‘দোস্ত! আজকে তুই আমাদের ফ্যান্টাসি টিমে মাত্র ৩ পয়েন্ট দিলি কেন? এই তোর খেলা?’
রদ্রি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলো তার জীবনের সেরা সময় ছিল। পড়াশোনার চাপ তাকে ফুটবলের মাঠের আকাশচুম্বী মানসিক চাপ থেকে দূরে রেখে মাটিতে পা দিয়ে চলতে সাহায্য করেছিল। সেখানেই তার পরিচয় হয় তার বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে, যিনি পেশায় একজন ডাক্তার এবং রদ্রির ফুটবলীয় সাফল্য বা ব্যর্থতা নিয়ে তার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা ছিল না।
তবে দুই ভুবন মেলাতে গিয়ে একবার বড় বিপদেও পড়েছিলেন রদ্রি। একদিন পরীক্ষার জন্য ফোন সাইলেন্ট করে হোস্টেলের রুমে পড়ছিলেন। পড়া শেষে ফোন হাতে নিয়ে দেখেন ৫০টি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আর ২০টি মিসড কল। সতীর্থ ফোন করে বললেন, ‘রদ্রি তুই কোথায়? ম্যানেজার তোকে খুঁজছেন। আমরা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্য বাসে বসে আছি!’ রদ্রি ভেবেছিলেন সতীর্থরা মজা করছেন, কারণ তার হিসেবে ম্যাচ ছিল পরদিন। কিন্তু ভুলটা আসলে রদ্রিরই হয়েছিল। তড়িঘড়ি করে কাপড় পরে ওয়ান-আওয়ার ড্রাইভ করে জেমস বন্ডের মতো ওমেল করসা ছুটিয়ে যখন ভ্যালেন্সিয়ার টিম হোটেলে পৌঁছালেন, তখন মিটিং শুরু হয়ে গেছে। সেদিন পেপের ক্লাসের ‘হোমওয়ার্ক না করা ছাত্রের’ মতো অবস্থা হয়েছিল তার।
নিজের ক্যারিয়ারের বিবর্তনকে একটি পাজলের (ধাঁধা) সঙ্গে তুলনা করেছেন রদ্রি। ভিয়ারিয়ালে তিনি বল পায়ে দুর্দান্ত টেকনিক শিখলেও মাঠে কিছুটা নরম স্বভাবের ছিলেন। কিন্তু এক মৌসুমের জন্য আতলেতিকো মাদ্রিদে দিয়েগো সিমিওনের অধীনে খেলার সময় তিনি মাঠে ‘দুষ্টু ছেলে’ হতে শেখেন। কীভাবে প্রতিপক্ষকে ট্যাকল করতে হয়, কীভাবে ৯০ মিনিট মাঠে তাদের অতিষ্ঠ করে তুলতে হয়— তা তিনি সিমিওনের ডকইয়ার্ডেই শিখেছিলেন।
পরের বছর যখন ম্যানচেস্টার সিটিতে আসার প্রস্তাব পান, তখন তা ছিল স্বপ্নের মতো। সিটিতে আসার আগে স্প্যানিশ কিংবদন্তি সার্জিও বুসকেটসের সঙ্গে কথা বলেছিলেন রদ্রি। বুসকেটস তাকে বলেছিলেন, পেপ? ও তোমায় বিশ্বসেরা খেলোয়াড় বানাবে। কিন্তু ও কোনোদিন, কোনোদিন তোমার ওপর চাপ সৃষ্টি করা বন্ধ করবে না। তুমি কখনোই ভাববে না তোমার শেখা শেষ হয়েছে।’ বুসকেটসের কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয়েছিল।
রদ্রির মতে, পেপ গার্দিওলা সবসময় ফুটবলের বিবর্তনে বাকিদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকেন। তিনি কখনোই গত মৌসুমের ফর্মুলা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন না, কারণ প্রতিপক্ষ ততদিনে তা অ্যানালাইসিস করে ফেলেছে। পেপ রদ্রির পাজলের শেষ মানসিক টুকরোটি জুড়ে দেন— মাঠের খেলাকে অন্য চোখে দেখা এবং কখন স্পেস তৈরি করতে হবে, কখন হোল্ড করতে হবে তা অনুভব করা। ২০১৯ সালে সিটির ড্রেসিংরুমে যখন রদ্রি পা রাখেন, তখন তার পাশে ফার্নান্দিনহো, আগুয়েরো, ডেভিড সিলভা, কেভিন ডি ব্রুইনার মতো কিংবদন্তিরা। ১০ বছর বয়সে যাকে আতলেতিকোর মাঠে অনুশীলন করতে দেখতেন, সেই আগুয়েরো এখন তার পাশের সিটের কমরেড!
আগুয়েরো ও ওটামেন্ডি অবশ্য সবসময় রদ্রিকে নিয়ে মজা করতেন। কারণ প্রতি ম্যাচের পর, দল জিতুক বা হারুক, বাসে উঠে রদ্রি তার দূর সম্পর্কের ডাক্তার গার্লফ্রেন্ডকে (এখন স্ত্রী) ফেসটাইম করতেন। দল হারলে বাসে যখন পিনপতন নীরবতা, সবাই হতাশায় মাথা নিচু করে বসে আছে, রদ্রি তখন লাউডস্পিকারে বলতেন— ‘হ্যাঁ, আজকে আমরা একটু বাজে খেলেছি, ম্যাচটা ড্র হলো। ধুর, মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল... আচ্ছা ছাড়ো, তোমার আজকের দিনটা কেমন কাটল?’ আগুয়েরো একদিন রদ্রিকে টেনে নিয়ে বললেন, ‘ভাই, তুই বাসে এভাবে কথা বলিস না, পেপ শুনতে পাবে!’ কিন্তু রদ্রির কোনো ফিল্টার ছিল না। মাঠের বাইরে তিনি সবসময় সাধারণ রদ্রিগো হয়েই থাকতে চেয়েছেন।
ফুটবলে সাফল্যের পেছনে থাকে দীর্ঘ এক কষ্টের ইতিহাস। ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে চেলসির কাছে হারার পর রদ্রি ড্রেসিংরুমের ফ্যামিলি জোনে গিয়ে মা-বাবাকে দেখে আক্ষরিক অর্থেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। ১০ বছর বয়সের সেই বাচ্চার মতো ডাইনিং টেবিলে স্তব্ধ হয়ে থাকার অনুভূতি হয়েছিল তার। সেই পরাজয়ের কষ্টই তাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করার তাগিদ দিয়েছিল।
যার ফলশ্রুতিতে আসে ২০২৩ সালের ইস্তাম্বুলের সেই রাত। ইন্টার মিলানের বিরুদ্ধে ফাইনালে তার করা সেই ঐতিহাসিক জয়সূচক গোলের মুহূর্তটি আজও ফুটবলপ্রেমীদের চোখে ভাসে। রদ্রি বলেন, ‘টিভির রিপ্লেতে গোল হওয়ার এক সেকেন্ড আগেও আমাকে ফ্রেমে দেখা যাবে না। বার্নার্দো যখন ক্রসটা করল, বল আমার কাছে আসার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু আমার ভেতরের এক অদৃশ্য কণ্ঠ বলে উঠল— ‘এবার বলটা তোর কাছেই আসবে।’ আমি এক পা সামনে বাড়ালাম, বল ডিফ্লেক্ট হয়ে আমার সামনে চলে এলো। আমার মাথায় তখন ২০ বছরের ফুটবলীয় স্মৃতি ভেসে উঠল— মাঠে জোরালো শট মারার দরকার নেই, স্রেফ পাড়ার মাঠের মতো বলটা জালে পুশ করে দাও।’
গোল করার পর রদ্রির প্রথম অনুভূতি কিন্তু উদযাপনের ছিল না, বরং তার মাথায় ঘুরছিল— ‘আরও ২০ মিনিট বাকি আছে! এই ২০ মিনিট আমাদের নরক যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে।’ নম্বর সিক্স পজিশনে খেলা একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের মস্তিষ্ক এভাবেই কাজ করে। সেই ট্রিপল জয় ছিল সিটির সমর্থকদের জন্য রদ্রির জীবনের সেরা উপহার।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের প্রথমার্ধে ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল রদ্রিকে। ডাগআউটে বসে থাকাটাকে তিনি তুলনা করেছেন ২০০ কিলোমিটার বেগে চলা গাড়ির প্যাসেঞ্জার সিটে বসে থাকার সঙ্গে— যেখানে নিজের হাতে স্টিয়ারিং থাকে না, কেবল রোলার কোস্টারের মতো রোমাঞ্চ আর ভয় কাজ করে। ৮৫ মিনিটে মিকেল ওইয়ারজাবাল যখন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়সূচক গোলটি করলেন, রদ্রি মাঠের চেয়েও জোরে দৌড়েছিলেন ডাগআউট থেকে উদযাপনের জন্য।
স্পেনের এই ইউরো জয়ে লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের মতো তরুণদের অবদান দেখে রদ্রি আপ্লুত। তিনি বলেন, ১৭ বা ২২ বছর বয়সে পুরো দেশের চাপ মাথায় নিয়ে ওরা যা করেছে, তা অবিশ্বাস্য। ওরা যদি জানত ওদের বয়সে আমি হোস্টেলে সাইকেল আর ওমেল করসা নিয়ে ঘুরতাম, ওদের মাথা ঘুরে যেত। যখন ল্যামিন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে গোল করল বা মিকেল ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠাল, তখন স্পেনের কোটি কোটি শিশু যেভাবে ঘরের ভেতর পাগলের মতো দৌড়ে আনন্দ করেছে, ঠিক একইভাবে ২০১০ সালে আমিও কানেকটিকাটের জঙ্গলে দৌড়েছিলাম। বৃত্তটা আজ পূর্ণ হলো।’
সময়ের আলো/কহু