পুরো বিশ্ব যখন ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মহাদ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় মাতোয়ারা, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে এক বিষাদময় স্তব্ধতা। ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর ছত্রছায়ায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের (সেটলার) হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন ফিলিস্তিনি জাতীয় যুব ফুটবল দলের উদীয়মান সদস্য ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ইহলোক সাঙ্গ করেছেন ১৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, গত ১১ জুলাই রামাল্লার পূর্বে আল-মুগাইয়ির গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর ইসরায়েলি সেটলাররা আচমকা সশস্ত্র হামলা চালায়। সে সময় নারীদের চিৎকার শুনে তাদের বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফাদি। ইসরায়েলি বাহিনীর ছোঁড়া বুলেট ফাদির উরুতে বিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসকেরা তার একটি পা কেটে বাদ দিতে বাধ্য হন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; শনিবার (১৮ জুলাই) রামাল্লার ফিলিস্তিন মেডিকেল কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
শনিবার কালো পোশাক পরিহিত শত শত শোকার্ত মানুষ ফাদির মরদেহ কাঁধে নিয়ে রামাল্লা থেকে তার নিজ গ্রামে জানাজা ও দাফনের জন্য নিয়ে যান। ফাদির মা হানান আল-নাসান কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, ও পড়াশোনায় যেমন ভালো ছিল, খেলাধুলাও ভালোবাসত। গ্রামের সবাই ওকে ভালোবাসত।
বিশ্বকাপের ফাইনালের ঠিক আগমুহূর্তে এই তরুণ ফুটবলারের মৃত্যু অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের ক্রমবর্ধমান বর্ণবৈষম্যমূলক (অ্যাপারথাইড) সহিংসতাকে আবারও বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকে কেবল পশ্চিম তীরেই ইসরায়েলি সেনা ও সেটলারদের হাতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১,০৮৮ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সময়ের আলো/কহু